নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি। ফাইল ছবি

মামলা ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ, মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেবেন যারা

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৯
আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৯

(প্রিয়.কম) বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। মিন্নি এ মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী। গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি জামিন দেওয়া হয়নি। তারপক্ষে কোনো আইনজীবীও আদালতে দাঁড়াননি।

অভিযোগ আছে স্থানীয় প্রভাবে মামলা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে করে নিজেদের বাঁচাতে কেউ কেউ সুবিধা নিতে পারেন।

গত মঙ্গলবার মিন্নিকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলাটি কেউ যেন ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করতে পারে। সে জন্য মামলাটি স্থানীয় প্রভাবমুক্ত করতে বরগুনা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। পাশাপাশি মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনসহ অনেক আইনজীবী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে মিন্নির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেকেই। গ্রেফতারের পর সুপ্রিম কোর্ট বারসহ দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির (বার) আইনজীবীরা মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরদিনই (১৭ জুলাই) তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম গত ১৭ জুলাই মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি রাষ্ট্র ও মিন্নির পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘চাইলে মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে চাই।’

মিন্নির মামলা বরগুনা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি জামিন দেওয়া হয়নি। তারপক্ষে কোনো আইনজীবীও আদালতে দাঁড়াননি। এ ঘটনাটি অনেকেই মনে করছেন যড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মামলায় স্থানীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ মামলাটি ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছেন অনেক আইনজীবী।

এ বিষয়ে ব্যরিস্টার আশরাফুল ইসলাম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এ মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাপার জড়িত। ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। মিন্নিকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হতে পারে। তাই মামলাটি ঢাকায় স্থানান্তর করা উচিত।’

মিন্নির পাশে দাঁড়াতে চায় যেসব সংস্থা

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট)। ছবি: সংগৃহীত

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট), নিজেরা করিসহ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে চায়। সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে শতাধিক আইনজীবীকে বরগুনায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেডআই খান পান্না এ বিষয়ে যা বললেন

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জহুরুল ইসলাম খান (জেড আই খান) পা্ন্না বলেন, ‘মিন্নিকে আইনি সহায়তার জন্য তার সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রায় শতাধিক আইনজীবী বরগুনায় যাবেন। এরই মধ্যে আইনজীবীরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। মিন্নির মামলার সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘প্রয়োজনে মামলাটি হাইকোর্টে নিয়ে আসব। এর সঙ্গে জড়িত সকলকে তলব করাব।’

মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে চান ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী

বামে  আয়েশা সিদ্দিকী মিন্নি ও ডানে রয়েছেন আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। ছবি: সৃহীত

বরগুনায় আদালতে মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি। এমন খবর শুনে মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের বিষয়ে মামলার আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী ফারুক আহমেদ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে রাজি আছে। সে জন্য আমাদের একজন আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল আজকে মিন্নির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আইনি সহায়তা নিতে সহমত প্রকাশ করেছেন। সে অনুযায়ী ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস আগামী মঙ্গলবার মিন্নিকে রিমান্ড থেকে আদালতে ফেরার দিন বরগুনার আদালতে গিয়ে তাদের আইনি সহায়তা দেবে।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘মামলার চার্জশিট হওয়ার পর মিন্নিকে যদি অভিযুক্ত করা হয়, তাহলে তার মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আনার চেষ্টা করা হবে, যাতে অবৈধ প্রভাবমুক্ত হয়ে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলে।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

আরো পড়ুন