১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এরশাদের আলোচিত কিছু উদ্যোগ

কামরুল ফকির
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০১৯, ১২:১৩
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৯, ১২:১৩

(প্রিয়.কম) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (জাপা) এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

১৪ জুলাই, রবিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান। 

রক্তে হিমোগ্লোবিন ও লিভারে দীর্ঘদিনের সমস্যার পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জুন সিএমএইচ-এ ভর্তি হন এরশাদ। এরপর গত ৪ জুলাই বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

৪ জুলাই এরশাদের ছোট ভাই এবং জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছিলেন, ‘সিএমএইচের ডাক্তাররা উনাকে (এরশাদ) খুবই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা করছেন। উনি এখন লাইফ সাপোর্টে আছেন, শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, কিডনি স্থবির হয়ে আছে, অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক মতো কাজ করছে না।’ 

সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ দীর্ঘদিন রক্তের রোগ মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে ভুগছিলেন। এতে তার অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করতে পারছিল না।

গত ২২ জুন সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করার পর এরশাদের ফুসফুস ও কিডনিতে সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসায় তার অবস্থা উঠা-নামা করে। বুধবার দুপুরেই সংবাদ সম্মেলন করে এরশাদের অবস্থা ‘উন্নতির দিকে’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন জিএম কাদের।

এরশাদের যেসব উদ্যোগ পরবর্তীতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নিম্নে এগুলোর মধ্যে থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো:

১. আশির দশকে প্রশাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন।

২. ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা।

৩. আশির দশকে জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করা।

৪. বায়তুল মোকাররমকে জাতীয় মসজিদ ঘোষণা করা।

৫. ১৯৮৩ সালে দেশের সকল মসজিদের পানি ও বিদ্যুতের বিল মওকুফের ঘোষণা করা।

৬. ১৯৮৫ সালে দাখিলকে এসএসসি সমমান করা।

৭. ১৯৮৭ সালে আলিম শ্রেণিকে এইচএসসি সমমান ঘোষণা করা।

৮. হাইকোর্টের সামনে মজা পুকুরটি ভরে সেখানে জাতীয় ঈদগাহ তৈরি করা করা।

৯. রেডিও-টিভিতে আজান প্রচারের ব্যবস্থা করা।

১০. উপজেলা পর্যায়ে আদালত ও পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করা, যদিও পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে আদালতে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের একাধিক বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়।

১২. প্রাদেশিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

১৩. দেশের বেশির ভাগ মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করা।

১৫. প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য দেশকে ৮টি ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। 

১৬. ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য আবাসিক প্লট বরাদ্দ করা হয়।

১৭. সকল সরকারি কর্মচারী, শিল্প-শ্রমিক, শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য শতকরা ৩০ ভাগ হারে মহার্ঘভাতা মঞ্জুর করা হয়।

১৮. রেল যোগাযোগকে সুষ্ঠুতর করার লক্ষ্যে রেলওয়ে বোর্ড-এর বিলুপ্তি করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এবং রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল নামে দু’টি সংস্থা গঠন করা হয়।

এরশাদ দলের সভা-সমাবেশে দেশের নানা বিষয় নিয়ে নানা-ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। নিম্নে ২০০৬ সালে পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় দেশ-জাতির উন্নয়নে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি সেই জনসভায় নিজের ভুল-ভ্রান্তির কথা স্বীকার করে জনগনের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিলেন। নিম্নে তার কিয়দাংশ তুলে ধরা হলো:

২০০৬ সালের পয়লা মার্চ রাজধানীর পল্টন ময়দানের জনসভায় এরশাদ বলেছিলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, কাজ করতে গেলে মানুষ মাত্রই ভুল-ত্রুটি হতে পারে। আমিও তার ঊর্ধ্বে নই। ভুল-ত্রুটি আমারও হয়তো হয়েছে। যদি ইচ্ছার অজ্ঞাতে কোনো ভুল করে থাকি তার জন্য আমি এই মহাসমাবেশে দাঁড়িয়ে আপনাদের কাছে- দেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আসুন দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ি। যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তাকে কাজে লাগাতে আসুন আমরা জীবনের বাজি ধরি- ‘হয় করবো- নয়তো মরবো’। আপনারা আমাকে আর একটিবার সুযোগ দিন। আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু বাকি নেই। যত দিন বাকি ততদিন দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশ ও জাতির সেবা করে যেতে চাই।’...

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ

আরো পড়ুন