কাঁচা রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ। ছবি: সংগৃহীত

কাঁচা রাস্তায় ধানের চারা রোপণ !

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৯, ১৫:৫৫
আপডেট: ১৪ জুন ২০১৯, ১৫:৫৫

(প্রিয়.কম) সাধারণত রাস্তা বা সড়ক বলতে আমরা বুঝে থাকি যেখান দিয়ে মানুষসহ যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সেই পথেই যখন ধানের চারা রোপণ করা হয় তখন বিষয়টা নিয়ে জনমনে কৌতূহল জন্ম নেবে এটাই স্বাভাবিক। এমনেই একটি ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুরে।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুর রাস্তার আড়াই কিলোমিটার কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এ অংশ পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও কাজ হয়নি। তাই এবার ওই কাঁচা রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

১৪ জুন, শুক্রবার সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরর শিক্ষার্থীরা পাইকপাড়া গ্রামের পটুয়া-জামালপুর রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেন।

যদিও অত্র নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনেক কাঁচা রাস্তা পাকা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ওই রাস্তাটিও আছে।

এদিকে সদর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুজ্জামান সরদার বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের নিদের্শে ২০১৮ সালে রাস্তাটির মাপ নিয়ে প্রাক্কলন করে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।

রহিমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান্নু জানান, প্রতি বছর ট্রলিতে করে ইট ভাটার গুড়া ইট এনে রাস্তাটিতে ফেলা হয়। তারপরেও কিছুদিন পরপর এ রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। পাকা রাস্তা না হওয়া পর্যন্ত এলাবাসীর দুর্ভোগ কমবে না।

জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ও অভিভাবকদের স্থানীয় শিবগঞ্জ বাজারে যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। এখনও বর্ষা শুরু হয়নি, কিন্তু এর আগেই বেহাল অবস্থা। দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, হচ্ছে। আশা করি, এই রাস্তাটি পাকা করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এলাকাবাসী জানায়, আড়াই কিলোমিটার কাঁচা সড়কের ২ কিলোমিটার রহিমানপুর ইউনিয়ন ও বাকিটা জামালপুর ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। রহিমানপুরের শেষ ও জামালপুরের শুরু হওয়ায় পাইকপাড়া গ্রামটি অবহেলিত। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তারা দেখে আসছেন, রাস্তাটির মাপ নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু পাকা করার কোনো খবর নাই। ফলে এলাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন ওই রাস্তা বাদ দিয়ে অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। জনপ্রতিনিধিদের রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কথা বার বার বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাস্তার এক পাশে জামালপুর আরেক পাশে রহিমানপুর। এরপরেও ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় লোকজন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার পাশে মাটি না পাওয়ায় জামালপুরের খারাপ অংশ মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল