নিহত মিনু আক্তারের লাশ তোলা হচ্ছে ও ইনসেটে মিনু আক্তার (বামে); গ্রেফতারকৃত জুনায়েদ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজের ১৫ দিন পর সোনারগাঁয়ে নারীর পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার

আজাদ চৌধুরী
জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০১৯, ১৮:১৭
আপডেট: ০৭ জুন ২০১৯, ১৮:১৭

(প্রিয়.কম) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাচপুরের কুতুবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজের ১৫ দিন পর মিনু আক্তার (৩৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১১। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামী জুনায়েদ আহমেদকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

৭ জুন, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মঞ্জুরখোলা এলাকায় একটি বিলের মধ্যে বালিচাপা দেওয়া বিবস্ত্র নারীর ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মিনু আক্তারের বাবার নাম এমএ হাশেম। বাড়ি কাচপুরের দক্ষিণপাড়া এলাকায়। তিন সন্তানের এ জননী স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন। অন্যদিকে জুনায়েদও একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, জুনায়েদের সঙ্গে স্বামী পরিত্যক্ত মিনুর বিয়ে হয়েছিল। কেউ কেউ বলছেন বিয়ে নয়, তাদের মধ্যে পরকীয়া চলছিল। তাদের সম্পর্ক জুনায়েদের স্ত্রী রোকেয়া মেনে নিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে কলহের কারণে মিনুকে হত্যা করা হয়।

মিনু আক্তারের মা মদিনা বেগম জানান, জুনায়েদ আহমেদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তাদের প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়েটি ছিল জুনায়েদের দ্বিতীয় এবং মিনু আক্তারে পঞ্চম বিয়ে। মিনুর আগের সংসারে তিন ছেলে রয়েছে।

এক বছর আগে জুনায়েদ মিনুকে তালাক দেন। কিন্তু স্ত্রীর পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় মিনুর সঙ্গে জুনায়েদের বিরোধ দেখা দেয়।

নিহতের মা আরও জানান, গত ২১ মে রাতে মিনুকে মোবাইল ফোন করে কে বা কারা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মিনু নিখোঁজ হন এবং মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

একপর্যায়ে জুনায়েদের বাড়িতে গিয়ে মিনুর খবর জানতে চাইলে তিনি বর্তমান স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পরদিন মিনুর মা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে পুলিশ জুনায়েদের বাসা থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও নারীর মাথার লম্বা চুল জব্দ করে। কিন্তু জুনায়েদকে আটক করা যায়নি। গত ২৩ মে ওই জিডির কপি নিয়ে মদিনা বেগম র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেন।

র‌্যাব-১১ সিইও লে. কর্নেল কাজী সামসের উদ্দিন চৌধুরী জানান, অভিযোগ আসার পর তদন্ত শুরু করা হয়। পরে জুনায়েদকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ সাবেক স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন। পরে মঞ্জুরখেলা বিল থেকে মিনুর বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার এবং জোনায়েদের ভাড়া বাড়ির পাশের পুকুর থেকে জামা-কাপড় উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ জানান, প্রথম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ২১ মে রাতে সাবেক স্ত্রী মিনু আক্তারকে বাসায় ডেকে এনে মিলন ঘটান। পরবর্তীতে মিনু ঈদে কাপড়ের ব্যবসা করার জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করলে জুনায়েদ তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে গলা টিপে হত্যা করেন।

হত্যার পর ভোরে লাশ বাড়ির পাশের পুকুরের কচুরিপানার ভেতরে রেখে চলে আসেন জুনায়েদ। পরে ২৩ মে গভীর রাতে পুকুরের কচুরিপানা থেকে মিনুর মৃতদেহ উঠিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে পাশের বালি ফেলার স্থানে নিয়ে গিয়ে গর্ত করে বালি দিয়ে চাপা দিয়ে লাশ গুম করেন।

প্রিয় সংবাদ

আরো পড়ুন