অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ছবি: সৌজন্য

‘সবাই স্বার্থের কারণে মেশে, স্বার্থ শেষ খোদা হাফেজ’

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০১৯, ১৯:৩৮
আপডেট: ২৯ মে ২০১৯, ১৯:৩৮

(প্রিয়.কম) ঠোঁটকাটা স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। এ কারণে জীবনে শুভাকাঙ্ক্ষী যেমন জুটেছে, নিন্দুকও দেখেছেন অনেক। তবে দুই পক্ষকেই সমানভাবে দেখার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার মনে হচ্ছে, এই চেষ্টাতে ব্যর্থ হবেন। কারণ ভেতরের মানুষটাকে তো আর বদলানো যায় না।

এবারের ঈদে ‍মুক্তি পাওয়ার তালিকায় রয়েছে স্পর্শিয়া অভিনীত ‘আবার বসন্ত’ ছবিটি। এ ছবির মধ্য দিয়েই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে তার। এতে অভিনয় ছাড়াও ব্যক্তিজীবনসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রিয়.কমের সঙ্গে।   

প্রিয়.কম: আপনার নাগাল পাওয়া তো দিনকে দিন বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে!

স্পর্শিয়া: অভিনয়ের পাশাপশি আমি আরও বেশ কিছু কাজ করছি। যার কারণে আমার দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যস্ততা একটু বেড়েছে। সারা দিন ফোন নিয়ে থাকলে, সবার কল রিসিভ করতে থাকলে, আমার যে মূল কাজগুলো, সেগুলো কীভাবে করব? তবুও চেষ্টা করি যতটুকু সম্ভব রেসপন্স করার। এর মধ্যে আমার ‘আবার বসন্ত’ সিনেমাটি ঈদে রিলিজ পেতে যাচ্ছে। যার কারণে সেটার প্রচারের কাজেও সময় দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

প্রিয়.কম: এ ছবিটি দিয়েই তো চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে আপনার। নিশ্চয় নিজের মধ্যে একধরনের বাড়তি উন্মাদনা অনুভব করছেন?

স্পর্শিয়া: উন্মাদনা না, আমার ভালো লাগছে এটা ভেবে, আমি কয়েকটা সিনেমাতে অভিনয় করে ফেলেছি কিন্তু মুক্তি পাচ্ছিল না। এ ছবিটির মধ্য দিয়ে সে বাধা ঘুচতে যাচ্ছে। এতে আমি অনেক খুশি। এতদিন আমার কাছে জানতে চাইত, সিনেমাতে অভিনয় করলেও কেন মুক্তি পাচ্ছে না, আমার ধারণা এর মধ্য দিয়েই সবাই যে যার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। আমার ধারণা সবার ভালো লাগবে আমাকে পর্দায় দেখে।

প্রিয়.কম: ছবিতে ঠিক কী রূপে দেখা মিলবে আপনার? আর নিজেকে চরিত্রের উপযোগী করে তুলতে কী ধরনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে?

স্পর্শিয়া: আমাদের এই সমাজে একটা স্বাধীন মেয়ে যেভাবে জীবনযাপন করে কিংবা তার চালচলন ঠিক যেমন আমাকে ঠিক তেমনই একটা চরিত্রেই দেখা যাবে। তবে এই মেয়েটা বাইরে থেকে দেখতে যতটা চঞ্চল, ভেতরে ঠিক তার বিপরীত। মানে একরাশ স্থবিরতা তার জীবনকে ঘিরে রয়েছে। তার জীবনে অনেক কষ্ট। বহু জটিলতার মধ্যে তাকে জীবনযাপন করতে হয়। চরিত্রের উপযোগী করে তুলতে নিজেকে মানসিক একধরনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সেই সঙ্গে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু বিষয়েও আলাদা করে ট্রেইনআপ করতে হয়েছে।

প্রিয়.কম: ইন্ডাস্ট্রির এখন এমন একটা সময় চলছে, যখন চারিদিকে সংকট। সেখানে ভিন্নধর্মী গল্পের এই ছবিটি কী যোগ করতে পারে ইন্ডাস্ট্রির চালিকাশক্তিতে?

স্পর্শিয়া: আমাদের দর্শক এখন অনেক স্মার্ট। কারণ দেশের মানুষের বেশির ভাগ মানুষের হাতেই এখন স্মার্টফোন। যার কারণে তারা দেশের বাইরে, কোথায় কী ধরনের সিনেমা হচ্ছে সেটাও তারা দেখতে পাচ্ছে। যার কারণে তাদের রুচিবোধও বেশ পরিবর্তন হয়ে গেছে। তাই তারা নতুন কিছু দেখতে চায়। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। না হয় কিছু হবে না। তবে শুধু আমার এই সিনেমাটাই না, ভালো এবং ভিন্নধর্মী যেকোনো সিনেমাই ইন্ডাস্ট্রিতে এখন প্রয়োজন।

প্রিয়.কম: এ ছবিটা দিয়ে ঢাকার চলচ্চিত্রে আপনার অবস্থান কতটা শক্ত হতে পারে বলে মনে হয়?

স্পর্শিয়া: আমি আসলে সেটা জানি না। স্থান সম্পর্কে ভাবিনি। ছবিটি মানুষের ভালো লাগুক, আমাদের অভিনয় ভালো লাগুক, সেটাই চাই। কাজ করছি, সামনে আরও ভালো ভালো কাজ করতে চাই। আমি জানি কাজই আমাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে, অন্য কিছু নয়। সে হিসেব করেই পথ চলছি।

প্রিয়.কম: ঢাকাই চলচ্চিত্রে স্ব-নামে ছবি চলার যে প্রচলন; সেটা প্রায় নাই বললেই চলে। ব্যতিক্রমের বেলাতেও এখন সংকট চলছে। নায়িকাদের বেলাতে যে নায়িকার হাতে বেশি ছবি, তিনিই এক নম্বর। আপনি বিষয়টাতে কী ভাবছেন?

স্পর্শিয়া: সংকট কোথায়? ‘দেবী’, ‘আয়নাবাজি’ কি মেইনস্ট্রিমের সিনেমা না? সেগুলো চলেনি? মানুষ ভালো কনটেন্ট চায়। কনটেন্ট ভালো হলে সিনেমা অবশ্যই চলবে। খারাপ সময় না, পরিবর্তনের সময় চলছে ইন্ডাস্ট্রির। নায়িকাদের বিষয় আমি জানি না, আমি অভিনেত্রী। ছয়টার জায়গায় একটা সিনেমা করব, ভালো অভিনয় করব, মানুষের মন জয় করব। এক, দুই তিন নাম্বার—আমি এগুলো হিসেব বুঝি না।

প্রিয়.কম: ‘আবার বসন্ত’ ছবিতে অভিনেতা তারিক আনাম খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

স্পর্শিয়া: তারিক ভাই তো অসাধারণ মানুষ। আর তার অভিনয় নিয়ে কথা বলার সাহস আমার নাই। কো-আর্টিস্ট হিসেবে তিনি অসাধারণ। শুটিংয়ের সময় খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাদের অনেক আলাপ হতো; যার কারণে কিছু কিছু জায়গায় কাজ করতে আমার জন্য বেশ সুবিধাও হয়েছে।

প্রিয়.কম: কাজের বাইরের প্রসঙ্গ; অনেক দিন তো হলো কাজ করছেন, ইন্ডাস্ট্রির দলাদলির মধ্যে কখনো পড়েছেন?

স্পর্শিয়া: না। কারণ আমার আলাদা জগৎ আছে, গণ্ডি আছে। আমি সেটার বাইরে বের হয়ে শুধু কাজটাই করি। কাজ শেষ হলে সোজা বাসায়। তাই কাজের বাইরে দলাদলি বা কোনো কিছুর মধ্যেই আমি নেই। সেটার কারণে আমাকে স্ট্রাগলটাও বেশি করতে হয়েছে। কিন্তু আমি ভালো আছি, সুন্দর একটা জীবনযাপন করছি। যার কারণে ওসব নিয়ে ভাবিও না। আমি জানি আমি কী।

প্রিয়.কম: ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুত্ব কতটা খাঁটি হয়?

স্পর্শিয়া: শুধুই ইন্ডাস্ট্রি না, সব জায়গাতেই এখন খাঁটি বন্ধু পাওয়া মুশকিল। সবাই স্বার্থের কারণে মেশে, স্বার্থ শেষ খোদা হাফেজ। এ কারণে আমার বন্ধু কম। শোবিজে আমার যে ক’জন আছে, তাদের সঙ্গে আমার স্বার্থের সম্পর্ক না। উপস্থাপক, মডেল এবং অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা আমার অনেক কাছের বন্ধু। ওর সঙ্গে আমি সবকিছুই শেয়ার করতে পারি। ও আমাকে বোঝেও।

প্রিয়.কম: নিজের ব্যাপারে কোন গুজবটা ছড়াতে চান?

স্পর্শিয়া: আমি মারা গেছি। সে খবর জানার পর মানুষের রিঅ্যাকশনটা ঠিক কেমন হয় তা দেখতে।

প্রিয়.কম: নিজের সম্পর্কে কোন গসিপ শুনে সবচেয়ে অবাক হয়েছেন?

স্পর্শিয়া: গসিপ না, আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষজন আমাকে নিয়ে যে রকম নেগেটিভ কমেন্টস করে থাকে, সেসব দেখে কিংবা পড়ে অবাক হই। আমার চরিত্র নিয়ে যখন অনেককেই লিখতে বা কমেন্ট করতে দেখি তখন আমার অনেক অবাক লাগে। আমার চরিত্র কেমন, তা আমার থেকে ভালো আর কে জানে? জানে না তো বলে কীভাবে? কী প্রমাণ আছে তাদের কাছে?

প্রিয়.কম: আপনার বেশ একটা বোল্ড ইমেজ রয়েছে। প্রেমজীবন নিয়ে অকপট, স্পষ্ট বক্তা—এটাই কি আসল স্পর্শিয়া?

স্পর্শিয়া: হুম, ওটাই আমি। সম্প্রতি একটু ডিপ্লোমেটিক হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে চেষ্টায় ব্যর্থ হব বলে মনে হয়, সবসময়ের মতো। আমার স্ট্রেট ফরোয়ার্ডনেস বেশিরভাগ মানুষেরই হজম হয় না। তবে তাতে আমার কিছু করার নেই। কারণ আমি ভেতরের মানুষটা যেমন বাইরেও একই রকম থাকতে চাই।

প্রিয়.কম: স্পষ্ট বক্তা স্পর্শিয়া কি নিজেকে সিঙ্গল বলবেন?

স্পর্শিয়া: হুম-ম, আমি সিঙ্গেল। আর বিষয়টা আমি উপভোগ করছি। কারণ জীবনের প্রত্যেকটা সময়ের আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। সেটাও একটু দেখি। অল্প সময়ের এই জীবনে কত কিছুই না দেখলাম!

প্রিয় বিনোদন/আজাদ চৌধুরী

আরো পড়ুন