প্রতীকী ছবি

ফোরজিতে আট বিভাগের পাঁচটিতেই ফেল ৩ অপারেটর, থ্রিজিতে ধুঁকছে টেলিটক

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৬
আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৬

(প্রিয়.কম) লাইসেন্স পাওয়ার দিন থেকে ৯ মাসের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ফোরজি সেবা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও তা পালনে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে দেশে থাকা বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলো।

লাইসেন্স পাওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আট বিভাগের মধ্যে পাঁচ বিভাগেই ফোরজি ইন্টারনেট সেবা দিতে এই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক।

সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির করা জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্রের দেখা মেলে।

দেখা যায়, গেল বছরের শেষে এবং চলতি বছরের শুরুতে আট বিভাগের মধ্যে পাঁচ বিভাগে কোয়ালিটি অব সার্ভিস সংক্রান্ত জরিপ চালায় বিটিআরসি। জরিপে বেছে নেওয়া হয় রংপুর, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগকে।

এসব বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সার্ভিস কাভারেজ, কল সেটআপ সাক্সেস রেট, কল ড্রপ রেট, মিন অপিনিয়ন স্কোর, কল সেটআপ টাইম, থ্রিজি এবং ফোরজি ইন্টারনেটের স্পিড।

এসব পরীক্ষায় দেখা যায়, নীতিমালা অনুযায়ী ফোরজি ইন্টারনেট স্পিডের ক্ষেত্রে পাঁচ বিভাগেই ফেল করেছে এই তিন মোবাইল অপারেটর।

নীতিমালা অনুযায়ী ফোরজি ইন্টারনেটের গতি (ডাউনলোড) প্রতি সেকেন্ডে সর্বনিম্ন ৭ মেগাবিট-এর কথা বলা হলেও কোনো মোবাইল অপারেটর এই গতির সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে না।

রাজশাহী বিভাগে তিন অপারেটরের গড়ে ফোরজি ইন্টারনেটের গতি ছিল ৬ দশমিক ১৮ এমবিপিএস। এ ছাড়া খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে এই ফোরজি ইন্টারনেটের ডাউনলোড গড় স্পিড ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯৬, ৬ দশমিক ০২ ও ৪ দশমিক ৫২ এমবিপিএস।

গত বছরের শেষে বিটিআরসি ঢাকা বিভাগের কয়েকটি স্থানে এই জরিপ চালায়। সেখানেও এই তিন অপারেটর নির্ধারিত ফোরজি ইন্টারনেটের গতি দিতে পারছে না তার প্রমাণ মেলে।

ওই জরিপে দেখা যায়, তিন অপারেটরের ঢাকায় গড়ে ফোরজি ইন্টারনেটের গতি ছিল ৫ দশমিক ৬৫ এমবিপিএস।

পাঁচ বিভাগে থ্রিজিতেই ফেল টেলিটক

এক বছর আগে লাইসেন্স পাওয়ার পর ফোরজি সেবা চালু নিয়ে বেসরকারি অপারেটরগুলোর মধ্যে ব্যস্ততা থাকলেও নীরব ছিল রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক। বেসরকারি অপারেটরদের ফোরজি সেবা চালুর প্রায় ১০ মাস পর ফোরজি সেবা চালু করে টেলিটক। ফলে বিটিআরসির করা কোয়ালিটি অব সার্ভিসেস সংক্রান্ত এই জরিপের আওতায় পড়েনি রাষ্ট্রীয় এই অপারেটরটি।

ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এই অপারেটরটি থ্রিজি সেবা দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী থ্রিজি ইন্টারনেটের গতি সর্বনিম্ন দুই মেগাবিট থাকলেও পাঁচ বিভাগে এই গতির সেবা দিতে পারছে না টেলিটক।

রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে টেলিটকের থ্রিজি ইন্টারনেটের গতি গড়ে ১ দশমিক ৬৭ এমবিপিএস। এ ছাড়া পাঁচ বিভাগের মধ্যে কলড্রপ এবং কল সেটআপ টাইমের দিক থেকে শীর্ষেও রয়েছে এই অপারেটরটি।

তিনটি বিভাগে নির্ধারিত দুই শতাংশের উপরে কলড্রপ হয়ে থাকে টেলিটকের। একই সঙ্গে তিনটি বিভাগে এই অপারেটরটির সাত সেকেন্ডের বেশি সময় প্রয়োজন হয় কল সংযোগ হতে।

বিটিআরসির বক্তব্য

কোয়ালিটি অব সার্ভিস সংক্রান্ত এই জরিপের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খাঁন একটি লিখিত বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ড্রাইভ টেস্ট কমিশনের একটি চলমান কার্যক্রম যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান সম্পর্কে কমিশন অধিকতর স্পষ্ট ধারণা লাভ করলো। আশা করছি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিশনের নিকট আরও সহজতর হবে এবং এর ফলে গ্রাহক সেবার মান বাড়বে।

প্রিয় প্রযুক্তি/রুহুল

আরো পড়ুন