(প্রিয়.কম) ২১ জুলাই রাত থেকে অধিকাংশ মানুষ ফেসবুকে ঢুকেই আহমেদ ফারিয়া এক তরুণীর ‘করুণ’ কান্নার একটি ভিডিও দেখছেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং ফেসবুকের নানা গ্রুপ ও ফোরামে এখনও পর্যন্ত এ ভিডিওটিই মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে আছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তুরণী ফারিয়া ‘কাঁদো কাঁদো’ গলায় তার বাবার বিরুদ্ধে তার ওপর যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করছেন। ওই তরুণীর কথা অনুসারে ক্লাস ফাইভ থেকেই তার বাবা তার ওপর যৌন ও শারিরীক নির্যাতন চালাত।

কিন্তু ১০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ফারিয়ার কথা শুনে অনেকেরই বেশ খটকা লেগেছে, ফারিয়ার অভিযোগের যৌক্তকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। এসব প্রশ্ন, তার কথার অসঙ্গতিগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো- 

প্রথমত, পুরো ১০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ফারিয়া তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম ও জঘন্য নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন, সেটি খুবই হৃদয়বিদারক। কিন্তু পুরো ভিডিওতে ফারিয়ার মৌখিক অঙ্গভঙ্গি কান্নার মতো হলেও তার চোখে নূন্যতম কোনো পানি দেখা যায়নি। অনেকেই প্রশ্ন ‍তুলেছেন, নিজেও ওপর হওয়া এমন নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়ার সময় কারোরই স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। তার ওপর ফারিয়াকে দেখা যাচ্ছিল সে কাঁদছে, কিন্তু তার চোখে কখনও একটুও পানি দেখা যায়নি।

দ্বিতীয়ত, ফারিয়া অভিযোগ করেছে- পঞ্চম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তার বাবা একদিন তাকে গোসল করাতে নিয়ে যায় এবং তার শরীরের প্রত্যেক অঙ্গে অযাচিতভাবে স্পর্শ করে। তার মা-ই নাকি সেদিন তার বাবার সাথে গোসল করতে পাঠিয়েছিল তাকে। তার অভিযোগ অনুসারে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত তার বাবা তার সাথে এই ধরনের আচরণ করত। বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তারা বলছেন, ক্লাস ফাইভের একটি মেয়ের বয়স আনুমানিক ১১ বছর। ক্লাস সেভেনে তার বয়স ছিল আনুমানিক ১৩ বছর। এ সময়টা যেকোনো মেয়ের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও শারীরিক পরিবর্তনের সময়। কোনো মা-ই এই বয়সী কোনো মেয়েকে তার বাবার সাথে গোসল করতে পাঠায় না। কোনো বাবা-ই এই বয়সী কোনো মেয়েকে গোসল করিয়ে দেয় না। এমন-কি এই বয়সী কোনো মেয়েই বাবা-মায়ের সাথে গোসল করে না। ভিডিওতে বাবার সাথে গোসল করতে যেতে সে আপত্তি জানিয়েছে, এমন কথাও উল্লেখ করেনি সে।

তৃতীয়ত, ফারিয়া অভিযোগ করেছে- খুব ছোটবেলা থেকেই বাবা তার ওপর যৌন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। অথচ ২০১৫ সালে দেওয়া তার একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাবার প্রতি তার ভালোবাসাই প্রকাশ পেয়েছে। থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে বাবাকে সে মিস করছে বলেও একটি ফেসবুক পোস্টে ‍উল্লেখ করেছে। অন্য আরেকটি ফেসবুক পোস্ট, যেটি কারও জন্মদিন উদযাপনের ছিল বলে মনে হচ্ছে, সেখানেও সে তার বাবাকে মিস করছে বলে উল্লেখ করেছে।

২২ জুলাই সকাল পর্যন্ত তার ফেসবুকে আগের পোস্টগুলো থাকলেও এসবের বর্তমান কথার সাথে মিলছে না এবং এ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মেয়েটি তার ফেসবুক থেকে সব পোস্ট ‘অনলি মি’ করে দিয়েছে বা ডিলিট করে দেয়। 

ফারিয়ার স্ট্যটাস

 

ফারিয়ার স্ট্যাটাস

চতুর্থত, ফারিয়ার এ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তার ছোট ভাই আহমেদ ইরাম অরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ফেসবুকে। যেখানে তার বোনের সব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত ছয় দিন ধরে তার বোন বাসা থেকে পালিয়ে আছে উল্লেখ করে ওই ভিডিওতে তার বোন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি এবং দুই বন্ধুর পাল্লায় পড়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে এমন ‘জঘন্য’ অভিযোগ এনেছেন তার বোন, এমন দাবিও করেন ইরাম। 

ফারিয়ার কথার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ফেসবুকে এম.এ.এইচ. আকাশ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমি জানি না মেয়েটা এসব বলে কি করে। বাবা-মা তোমাকে কেন শাসন করে সেটা তো বললে না।’

ফারজানা রহমান লিখেছেন, এই মেয়েটা তো পরিষ্কারভাবে কথাই বলতে পারছে না... কথা শুনে মনে হয় সে নেশা করে... জোর করে কাঁদার চেষ্টা করছে, সেটা দেখলেই বোঝা যায়... একটা মেয়েকে তাও নিজের মেয়েকে কোনোও বাবা কোনো কারণ ছাড়াই বেশ্যা বলে গালি দেয়??!! মেয়েটা কিছুই করে না অথচ তার বাবা তাকে মারে গালি দেয়, কথাটা শুনতে একটু আজব লাগে না! মায়া কান্না দেখিয়ে বাবাকে ফাঁসানোর চেষটা করছে না তো?! আজকাল দেখলে বোঝাই যায় না যে, কে সত্যি বিপদে আছে আর কে বিপদে থাকার ভান করছে... বাবা মা-কেও বিপদে ফেলতে ছাড়ে না ছেলেমেয়েরা...।

প্রিয় সংবাদ/মিজান