(প্রিয়.কম) রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে অং সান সু চি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকায় সেখানে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিউ। সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষনে সু চির পথে হেঁটে বললেন, রাখাইন থেকে চলে যাওয়া মানুষদের বিষয়ে ‘গভীর মনোযোগ’ রেখেছে তার সরকার।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, মিয়ানমার ঘটনার বিশালতা তদন্ত করে দেখছে। তবে তিনি বরাবরের মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশত্যাগের বিষয়ে পরিস্কার করে কিছই বলেননি।

মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও এই সপ্তাহে সমস্যাটিকে গুরুত্বহীন করে দেখাতে চেয়েছেন। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিছু না বলায় বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ভয়াবহতা প্রতিদিনই সামনে আসলেও এ বিষয়ে চুপ ছিলেন তিনি।

বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্টও সেই পথে হেঁটে বললেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই যে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।’ জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করার সুরে তিনি বলেন, কোন ধরণের বৈষম্য ছাড়াই সেখানে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সেখানে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ চলছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেনি রোহিঙ্গাদের উপর ‘ভয়ানক বর্বরতা’ চালানোর জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ে এটিই মার্কিন কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া।

এদিকে বিশ্বনেতারা রাখাইনের সহিংসতা বন্ধের আহবান অব্যাহত রেখেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো এটিতে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়’ বলে আখ্যায়িত করে আসছেন।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন