(প্রিয়.কম) আজকাল স্মার্ট-ফোন সবারই আছে আর আমরাও ধীরে ধীরে স্মার্ট-ফোনের উপরে নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি, নিত্য নতুন ফিচারে নিজেদের অভ্যস্ত করে নিচ্ছি। সামনেই আসছে বিশাল একটা ছুটি আর এই ছুটিতে আমরা কেউ ভাবছি ভারতে যাব, কেউ নেপাল, ভুটান, কেউ বা থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া। যেই দেশেই যান, আপনার সাথে থাকা স্মার্ট-ফোন আপনার ভ্রমণকে করতে পারে আরও স্মার্ট, আরও নিরাপদ ও আরও ঝামেলা-মুক্ত।

আসুন, বিদেশে স্মার্ট-ফোন ব্যবহার নিয়ে কিছু বিষয় জেনে নেয়া যাক।

রোমিং কে না বলুন! 

রোমিং এমন একটা টেকনোলজি, যার ফলে আপনি ভিনদেশে আপনার নিজের সিম কার্ড ও নিজের নাম্বারই ব্যবহার করতে পারেন। শুনতে বেশ ভালোই লাগছে বটে, তবে এটা অত্যন্ত খরুচে একটা বিষয়। বিশ্বাস হবে, যদি বলি সাত দিনে বিশ হাজার টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে আপনার? যারা কর্পোরেট কাজে যান, কোম্পানির খরচে যান, তাদের জন্য এটা বড় কোন বিষয় নয়। কিন্তু আমরা যারা বাজেট ট্রাভেলার, তাদের জন্য এটা বিশাল একটা সমস্যা। আবার দেশের সাথে যোগাযোগ রাখাটাও একটা জরুরী বিষয়। সেটার জন্যও আমরা উপায় বার করে ফেলছি, কিন্তু এটা জেনে রাখুন, একজন বাজেট ট্রাভেলার হিসেবে রোমিং কখনোই আপনার জন্য ভালো কোন অপশন হবে না।

তাহলে বিদেশে গিয়ে কি উপায়?

উপায় আছে। আপনার সাথে আছে স্মার্ট-ফোন। সেটা দিয়ে করা যায় অনেক কিছুই। তবে তার আগে আর একটা জিনিস জেনে নিন, আজকাল ভিনদেশে গিয়ে সিম কার্ড কেনা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। এয়ারপোর্টে নেমেই আপনি পাসপোর্টের কপি জমা দিয়ে একটা স্থানীয় ফোন কোম্পানির সিম-কার্ড কিনে নিতে পারবেন এবং সেটা দিয়ে সেই দেশে সস্তায় বিভিন্ন কল করতে পারবেন আপনি।

ভাবতেই পারেন, কি দরকার কল করার! দরকার হতে পারে ট্যাক্সি ডাকতে, দরকার হতে পারে হোটেল বুকিং কনফার্ম করতে, দরকার হতে পারে আপনার স্থানীয় বন্ধুটির সাথে যোগাযোগ করতে। আবার জরুরী অবস্থায় আপনার দেশ থেকেও মানুষজন কল করতে পারবে।

আর স্থানীয় একটা সিম কার্ড কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, অত্যন্ত সস্তায় থ্রিজি/ফোরজি ডাটা পাওয়া যাবে। সেই ডাটা আর স্মার্ট-ফোন ব্যবহার করে আপনি পেতে পারেন অনেক অনেক সুবিধা।

স্মার্টফোন থেকেই অনলাইনে পে করে বুকিং করে নিন হোটেল, ফ্লাইট সহ অনেক কিছুই। ছবি: সংগৃহীত।

ভ্রমণে স্মার্ট-ফোন এর স্মার্ট ব্যবহার

রেস্তরাঁ ও হোটেল বুকিং: আজকাল বিভিন্ন রকম স্মার্টফোন এপস পাওয়া যায়, যেই এপস গুলো বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁ বুকিং ওয়েবসাইটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে চলতে ফিরতেই। আপনি চলন্ত অবস্থাতেই হোটেল ও রেস্তরাঁয় রুম ও সিট বুকিং দেবার বিষয়ে। এই এপস গুলোর মাধ্যমে আপনি জেনে নিতে পারবেন আশে পাশে কোন হোটেল গুলো আছে আপনার বাজেট এর মাঝে। কোথায় সস্তায় ভালো খাবার পাওয়া যায়।

বাস, ট্যাক্সি ও ট্রেন: বেশ কিছু এপস আছে যেগুলো দিয়ে আপনি সরাসরি বাস ও ট্রেনের টিকিট করতে পারবেন, ট্যাক্সি  সার্ভিস কল করতে পারবেন। ভারতে গিয়ে আপনি মেক মাই ট্রিপ.কম, বুকিং.কম ইত্যাদি এপস ব্যবহার করে সহজেই যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে পারেন।

উবার: বাংলাদেশের মত প্রায় সব টুরিস্ট দেশেই এখন উবার চলছে নিয়মিতভাবেই। আপনার দেশের উবার একাউন্টটা দিয়েই আপনি ভিনদেশেও আপনি রাইড শেয়ার করতে পারবেন সহজেই। বিভিন্ন দেশেই দেখা গেছে ট্যাক্সির তুলনায় উবার সস্তায় পাওয়া যায়।

গুগল ম্যাপ: একটা দেশে গেছেন, আর সেই না চেনার দেশে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে না চাইলে গুগল ম্যাপ হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ। আপনি কোথায় আছেন, সেটা ডাটা ও জিপিএস অন থাকা সাপেক্ষে দেখে নিন, কোথায় যেতে চান, সেটা সার্চ করুন এবং সেদিকে যেতে থাকুন। দূরত্ব কম হলে হেঁটেই চলে যান, বেশি হলে ছোটখাটো কোন যান নিয়ে নিন। গুগল ম্যাপে ভালো ও রেপুটেড রেস্তরাঁ খুঁজে পেতে সহযোগিতা করতে পারে আপনাকে, ভালো হোটেল খুঁজে পেতেও সহযোগিতা করতে পারে আপনাকে। এছাড়াও আপনি যখন ট্যাক্সিতে করে কোথাও যাচ্ছেন, গুগল ম্যাপটির দিকে নজরে রাখলে আপনি বুঝতে পারবেন ট্যাক্সি আপনাকে সঠিক দিকে নিচ্ছে নাকি অন্য দিকে। অনেক সময় ইচ্ছা করে ঘুরপথে নেয় তারা ভাড়া বেশি নেবার জন্য, সেটাও প্রতিরোধ করতে পারেন গুগল ম্যাপ দেখেই।

আপনার হোটেল মার্ক করুন: দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে নিজের হোটেল হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা আছে অনেকেরই। সকালে বের হয়েছেন, হোটেলের ঠিকানা ভালোভাবেই বুঝে নিয়েছেন, কিন্তু বিকেলে ফিরতে গিয়ে দেখছেন সেই হোটেল এর ঠিকানা মনে করতে পারছেন না. বা হোটেলের কার্ড হারিয়ে ফেলেছেন কিংবা সবই আছে, কিন্তু কোন ট্যাক্সি বা উবার সেই ঠিকানা চিনতে পারছে না। আপনার গুগল ম্যাপে আপনি হোটেল মার্ক করে রাখুন। এর পরে যেখানেই থাকুন, সেটা দেখতে পারবেন। হারিয়ে যাবার কোন ভয় নেই।

জরুরী ফোন নম্বর: যে দেশে যাবেন, একটু খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন সেই দেশের জরুরী ফোন নম্বরের জন্য কোনও না কোনও এপস রয়েছে। এই নম্বরগুলো হতে পারে হাসপাতাল, পুলিশ, দূতাবাস। যেকোনো সময় দরকার হতে পারে এই নম্বরগুলো। হাতের কাছে থাকলে যে কোনো বিপদে এই নম্বরগুলো আপনাকে ঝামেলা থেকে বাঁচাবে।

ক্যামেরা ও জিও ট্যাগিং: আজকাল ফোনগুলোতে চমৎকার সব ছবি তোলার পাশাপাশি ছবিগুলোতে জিও ট্যাগিং ও করা যায়। অর্থাৎ, ছবিতেই লোকেশন ডাটা দেয়া থাকবে। এটা চালু করলে আপনি যেখানেই ছবি তোলেন না কেন, সেটার তথ্য ছবিতেই থেকে যাবে। কোথায় কখন তুলেছেন তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না একদমই। এর ফলে পরে ছবিগুলো নিয়ে কাজ করতে গেলে সাজাতে সুবিধা হবে।

স্মার্টফোন থাকলে ডাটা কিংবা ওয়াইফাই ব্যবহার করেই আপনি স্বল্প মুল্যে কিংবা বিনামুল্যেই দেশে কথা বলতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত।

হোয়াটসএপ, ভাইবার, ইমো, স্কাইপ: যেহেতু আপনি ভিনদেশে গিয়ে একটি স্থানীয় সিম কিনেছেন, এবং তাতে ডাটাও নিয়েছেন, তার মানে আপনি সবসময়ই ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে পারছেন। এই ডাটা ব্যবহার করে আপনি হোয়াটসএপ, ভাইবার, ইমো, স্কাইপ ইত্যাদি দিয়ে দেশে সহজেই কল করতে পারবেন অত্যন্ত সস্তায় আর ভিডিও কল, চ্যাট ইত্যাদিও করতে পারবেন সহজেই। যেখানে যেমন, ঠিক সেভাবেই ফেসবুকিংও করতে পারবেন ইচ্ছামত। অনেকগুলো টাকা খরচ করে দেশে কল করার সমস্যা থাকবে না আর।

খুঁজতে থাকলে বের হয়ে আসবে আরও শত শত বিদেশে স্মার্ট-ফোন এর স্মার্ট ব্যবহার টিপস। দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দরকারে তাই চট করে ভেবে নিন, কীভাবে আপনার স্মার্ট-ফোনটির সর্বোচ্চ ব্যবহারটি করতে পারবেন আপনি। 

সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
ভ্রমণ সম্পর্কিত আরও জানতে চোখ রাখুন আমাদের প্রিয় ট্রাভেলের ফেসবুক পাতায়। 
ভ্রমণ নিয়ে আপনার যেকোনো অভিজ্ঞতা, টিপস কিংবা লেখা পোস্ট করুন আমাদের সাইটে । আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।