(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর পদেক্ষপ গ্রহণ ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চেয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে টেলিফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রেক্স টিলারসনের সঙ্গে মিন অংয়ের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

টেলিফোনে আলাপকালে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিলারসন। তিনি রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে আহবান জানান।

মিয়ানমার

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন(বাঁয়ে) ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।

হত্যা-নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতেও মিয়ানমার সেনাপ্রধানের প্রতি আহবান জানান টিলারসন। একই সঙ্গে রাখাইনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে এবং সাংবাদিকদের যেতে দেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের জেনারেলের সহযোগিতা চান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ এসেছে তার তদন্তে জাতিসংঘকে সহযোগিতা করতে মিন অং হ্লাইংকে আহবান জানান রেক্স টিলারসন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ৭ লাখেরও বেশি। রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার এ ধারা অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পালিয়ে আসার হার আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও, ১৫ অক্টোবর থেকে তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে কিছু এরিয়াল ফুটেজ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, উখিয়ার পালংখালির কাছে নাফ নদী পার হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় জাতিসংঘ মনে করছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে জাতিগত নিধনে নেমেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৯০ ভাগই হলো নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মতে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু রয়েছে শতকরা ৬০ ভাগ

এর মধ্যে ১১শ’র বেশি রোহিঙ্গা শিশু পরিবার ছাড়া অচেনাদের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আর এসব শিশুর চোখের সামনেই তাদের বাবা-মাকে গুলি ও জবাই করে হত্যা, মা-বোনদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ঘর-বাড়িতে আগুন দেওয়াসহ ইতিহাসের নৃশংসতম ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা।

প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা।

প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের দেওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করেছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দী, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি-ভিডিও এবং সব ধরনের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ উপসংহারে উপনীত হওয়া যায় যে, ‘রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ।’

অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী খুন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, কুপিয়ে হত্যাসহ বর্বরতার চূড়ান্ত সীমাও অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্থাটি বলেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ২৮৮টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম। সংস্থাটি আরও জানায়, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। 

প্রিয় সংবাদ/মিজান