(প্রিয়.কম) ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামের সাত বছরের শিশু প্রদ্যুম্ন ঠাকুরের হত্যার একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রদ্যুম্নের মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তের ছবি মিলেছে। সেই ফুটেজেই দেখা যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শৌচাগার থেকে হাত দিয়ে গলা-কাঁধের জখম নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এসে বাঁচার চেষ্টা করেছিল প্রদ্যুম্ন।

সম্প্রতি গুরুগ্রাম পুলিশের হাতে স্কুলের শৌচাগার বাইরের দিকের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মিলেছে। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, সকালে ৭টা ৪০ মিনিটে বাস নিয়ে স্কুলে পৌঁছায় আশোক কুমার। সে কম্পাউন্ডের ভেতর বাসটি পার্ক করে কিছুক্ষণ পরেই প্রদ্যুম্ন টয়লেটে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে ঢুকেছিল বাস কন্ডাকটর অশোক কুমার। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শৌচাগার থেকে বেরিয়ে যায় অশোক। এরপরেই রক্তাক্ত অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসে প্রদ্যুম্ন। দেখা যায়, হাত দিয়ে কাঁধের ক্ষত চেপে ধরে রয়েছে সে। কিন্তু শৌচাগারের দরজা পর্যন্ত এগিয়েই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রদ্যুম্ন।

স্কুলের দারোয়ান শৌচাগারের বাইরে প্রদ্যুম্নকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনিই অ্যালার্ম বাজিয়ে সকলকে ডাকেন। পরে অ্যালার্ম শুনেই আশেপাশের ক্লাস থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অভিযুক্ত অশোক কুমারও। এরপরেই প্রদ্যুম্নকে একজন শিক্ষকের গাড়িতে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, যৌন নিগ্রহের কোনো প্রমাণ মেলেনি সাত বছরের ওই শিশুর শরীরে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র প্রদ্যুম্নের লাশ। শিশুটিকে খুনের অভিযোগে ওই দিন বিকেলেই স্কুলের একটি বাসের খালাসিকে গ্রেফতার করে গুরুগ্রাম পুলিশ।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত