(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে অনুদান পাওয়া বেশিরভাগ চলচ্চিত্রগুলোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না করা কিংবা নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। আর এর শুরুটা সেই ১৯৭৬ সাল থেকেই। যখন চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম অনুদান দেওয়া হয়। দেখা গেছে, অনুদান পাওয়ার পর থেকে ছবির মুক্তির আগ পর্যন্ত পুরো বিষয়গুলো এক প্রকার গোলক ধাঁধার মধ্যে আটকে থাকে!

আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করার শর্ত থাকলেও পরিচালকরা ব্যর্থ হন। সেটিও নানান সময়েই দেখা গেছে। তবে অনুদানের অর্থপ্রাপ্তির ৯ মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ করে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রয়োজনে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে সময় বাড়ানো যায়। কিন্তু বারবার সময় বাড়িয়ে নিয়েও ছবি শেষ করতে পারেন না অনেক পরিচালক।

তবে এর মধ্যে আশার বাণী হল-কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের বিখ্যাত গল্প ‘কাঁটা’ অবলম্বনে ‘কাঁটা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করার জন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে কবি ও নির্মাতা টোকন ঠাকুর সরকারি অনুদান পান। এদিকে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গিয়েছে বহু আগেই। আর নির্মাতার ভাষায় বলতে গেলে, বিশেষ করে অর্থের সংকটের কারণেই ছবিটি নির্মাণে এ দীর্ঘসূত্রিতা।  

দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে এবার নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে ছবিটির। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানালেন এ নির্মাতা। তার কাছে প্রশ্ন ছিল-অনুদান পাওয়ার পর প্রায় ৫ বছর হয়ে গেল। নিয়ম অনুযায়ী অনুদান পাওয়ার নয় মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ করে জমা দেওয়ার নিয়ম। সেখানেই শুরুতেই এতোটা সময় লেগে গেল! আর শিল্পী নির্বাচনের কাজ এখনও শেষ হয় নি। এ দীর্ঘসূত্রিতার আসল কারণটা কী?

তিনি বলেন,‘ছবিটি নির্মাণ করার জন্য যে টাকা দরকার সেটি শুধু অনুদানের টাকা দিয়েই সম্ভব নয়। এ কয়টা বছর আমি প্রায় ৫০টি কোম্পানির এমডির কাছে গিয়েছি, যাতে তারা চলচ্চিত্রটিতে লগ্নি করেন। কিন্তু ভাল সিনেমায় লগ্নি করতে চান, এমন ব্যবসায়ী কয়জন আছেন?’

তিনি আরও বলেন,‘আমি এরপর মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে গিয়ে আমার দিকটির কথা তুলে ধরেছি। কেন নির্মাণে দেরী হচ্ছে। এখন আমি আমার এক কবিতার পাঠকের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সে সাপোর্ট পেয়েছি। তাই নির্মাণের জন্য আরও বেশ কয়েকধাপ এগিয়ে শিল্পী নির্বাচনের কাজটি করছি।’

এ নির্মাতা জানান, চলচ্চিত্রটির জন্য কিছু নতুন মুখ খুঁজছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ের সাতটি চরিত্রের জন্য অভিনয়শিল্পী দরকার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পুরান ঢাকার একটি গল্পের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পটি।

আর অডিশনে আগ্রহীদের ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ই-মেইলে (36bhootergoli@gmail.com) যোগাযোগের অনুরোধ জানান এ নির্মাতা। এছাড়া অডিশনের পর বাছাইকৃত শিল্পীদের পরিচর্যা শেষে অক্টোবরেই নির্মাণ কাজ শুরু করতে চান। আর সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ডিসেম্বরেই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিতে চান টোকন।

‘ব্ল্যাক আউট’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন টোকন ঠাকুর। ছোটপর্দায় নির্মাণের পাশাপাশি সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘রাজপুত্তুর’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সে’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই ছবি।

প্রিয় বিনোদন/গোরা