(প্রিয়.কম) পরিসংখ্যান বলে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারে না বাংলাদেশ। আগের খেলা চার টেস্টের তিনটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হার। আরেকটিতে সম্ভাবনা জাগলেও শেষপর্যন্ত জুটিছেলো তিন উইকেটের হার। ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারো সাদা পোশাকের লড়াই। এবার কেমন করবে বাংলাদেশ? উত্তরে বলা হচ্ছে ২-০ ব্যবধানেও সিরিজ জেতা সম্ভব।

তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে যে সমীহ দেয়া হচ্ছে? এটা আর কোনো কারণে নয়। তাদের নামটা অস্ট্রেলিয়া বলেই স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা এই সমীহটুকু পাচ্ছেন। আর কেউ নন, এমনটি বলছেন ২০০৬ সালে ফতুল্লায় শেন ওয়ার্ন-ব্রেট লিদের মতো বাঘা বাঘা বোলারদের বিপক্ষে ১৩৮ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলা শাহরিয়ার নাফিস।

বাংলাদেশের বাঁ-হাতি এই ক্ল্যাসিক ব্যাটসম্যান মনে করিয়ে দিলেন, সেই অস্ট্রেলিয়া আর এই অস্ট্রেলিয়া এক নয়। বাংলাদেশও এখন পরিণত দল। সিরিজে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, দুই দলের শক্তি এবং দুর্বল জায়গাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রিয়.কমের সাথে কথা বলেছেন শাহরিয়ার নাফিস। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

- কেমন সিরিজ আশা করছেন? ফিফটি ফিফটি বলা যায় কি না? 

শাহরিয়ার নাফিস: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটা দারুণ হবে আশা করছি। এই সিরিজে বাংলাদেশের দিকে পাল্লাটা কিছুটা হলেও ভারী থাকবে। না, ফিফটি ফিফটি না। এটা হবে ৬০-৪০। বাংলাদেশের দিকে ৬০ ভাগ থাকবে বলে আশা করছি। 

- সিরিজের ফল কেমন আশা করছেন। স্কোর লাইন কী হতে পারে?

শাহরিয়ার নাফিস: খুব খুশি হবো বাংলাদেশ সিরিজ জিতলে। সেটা ১-০ হতে পারে, ২-০ হতে পারে। এটা আমি বিশ্বাস করি। এটা আশা বা আকাঙ্ক্ষার কথা নয়। আমার বিশ্বাসটা এমন। তবে বাস্তবতার নিরিখে আমার কাছে মনে হয় ১-১ হতে পারে।

- এই অস্ট্রেলিয়া দল নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

শাহরিয়ার নাফিস: এই অস্ট্রেলিয়া দলটা বেশ তরুণ। এই অস্ট্রেলিয়া দল একটা রি-বিল্ডিং প্রসেসে আছে। তাদের অনেক নতুন খেলোয়াড় আছে। অস্ট্রেলিয়া চেষ্টা করছে একটি শক্তিশালী টেস্ট দল দাঁড় করানোর জন্য। গত এক বছরে তাদের দলে আমরা অনেক পরিবর্তন দেখতে পেরেছি। এই অস্ট্রেলিয়া দলে বিশ্বমানের ক্রিকেটার থেকে থাকলে তাহলে আমি বলবো স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার এবং নাথান লায়নের কথা। বাকি যারা আছে তারাও অবশ্যই মানসম্মত খেলোয়াড়। তবে তারা এখনো টেস্টে সেভাবে নিজেদের প্রুভ করতে পারেনি। ওই হিসেবে তরুণ এবং অভিজ্ঞতার একটি মিশ্রণ আছে। 

- এই সিরিজে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনার ব্যাপারে বলা হচ্ছে। আবার অস্ট্রেলিয়াকে আমরা সমীহও করছি। এটা কি তাদের নাম অস্ট্রেলিয়া বলেই? নাকি এই দলকেও সমীহ করার মতো ব্যাপার আছে?

শাহরিয়ার নাফিস: না, পারফরম্যান্স নয়; এই সমীহ তাদের নাম অস্ট্রেলিয়া বলে। কারণ অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দল, তারা কোনো সময় হাল ছাড়ে না। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য তাদের আছে। অস্ট্রেলিয়া দলের ক্রিকেটারদের যে মানসিকতা সেটা যে কোনো দলের ক্রিকেটারদের মানসিকতার চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণেই তাদেরকে সমহীহ করে মোকাবেলা করছি। 

- অস্ট্রেলিয়া দলের শক্তির জায়গা কোনটা বলে মনেহয়?

শাহরিয়ার নাফিস: এই অস্ট্রেলিয়ার শক্তির জায়গা হচ্ছে যারা টপ খেলোয়াড় যাদের কথা বললাম, তারা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারে। যে কোনো ধরনের বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তরুণ দলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। তবে তারা এই সিরিজ নিয়ে খুবই সতর্ক থাকবে। কারণ তারা সম্প্রতি উপমহাদেশের মাটিতে ভারত এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে। তারা অবশ্যই চাইবে এখান থেকে ভালো একটা রেজাল্ট নিয়ে যেতে। 

- আর দুর্বল জায়গার কথা যদি বলি? বিশেষ করে উপমহাদেশে।

শাহরিয়ার নাফিস: তাদের প্রথম দুর্বলতা দলটি একেবারে অনভিজ্ঞ। এছাড়া তাদের যে ব্যাটিং লাইন আপ আছে সেটা স্পিনের বিপক্ষে দুর্বল। এটা ভারতের বিপক্ষে প্রমাণিত হয়েছে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া উপমহাদেশে তাদের রেজাল্ট অনেকদিন ধরে ভালো নয়। 

- রেজাল্ট যেটাই হোক, এই সিরিজে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়াকে সমশক্তির দল বলা যায় কিনা?

শাহরিয়ার নাফিস: যদি বাংলাদেশের কন্ডিশনে হিসাব করেন, বাংলাদেশের ফর্ম হিসাব করেন, তাহলে বলবো সমশক্তির দল নয়। বাংলাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ ওদের চেয়ে এগিয়ে। 

- বলছিলেন বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। ঠিক কোন জায়গাটায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে?

শাহরিয়ার নাফিস: সর্বপ্রথম উপমহাদেশে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বেশ ভালো। বাংলাদেশ দলটা তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে। বাংলাদেশের এই দলটা হোম কন্ডিশনে যে কোনো দলের চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। টেস্টে আমরা ইংল্যান্ডকেও হারিয়েছে। এসব বিষয়ই বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে। 

- অস্ট্রেলিয়াকে দেশের মাটিতে দেখে অতীত ফিরে আসছে কি না? 

শাহরিয়ার নাফিস: না, অতীতে ফিরে যাচ্ছি না। ১১ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার যে দলটার বিপক্ষে আমরা খেলেছিলাম, আমার দৃষ্টিতে ওই দলটি ছিলো ইতিহাসের সেরা তিন দলের একটা। ও্ই দলে হেইডেন, গিলক্রিস্ট, পন্টিং, ওয়ার্ন, ব্রেট লির মতো ক্রিকেটাররা ছিলো। ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়া দল এখন বেশ তরুণ। তারা ততুন করে দল তৈরি করার একটি প্রসেসের মধ্যে আছে। পাশাপাশি ১১ বছর আগে বাংলাদেশ দল যে অবস্থানে ছিলো তার চেয়ে অনেক উন্নতি করেছে। ১১ বছর আগের সময়ের সাথে তুলনা করা ঠিক হবে না। যদি বলে থাকেন আমি সিলেকশনের ব্যাপারে হতাশ কি না আমি বলবো, আমি মোটেও হতাশ নই। আমি আমার পারফরম্যান্সের ব্যাপারে খুবই হ্যাপি। সিলেকশনের ব্যাপারটি সিলেকটরদের ওপর নির্ভর করে। এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

- অস্ট্রেলিয়ার প্রসঙ্গ উঠলে সবার আগে আপনার নাম উঠে আসে। বলা হয় আপনার সেই অসাধারণ সেঞ্চুরির কথা। তো সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ থাকবে কি না?

শাহরিয়ার নাফিস: প্রথমত শুভকামনা থাকবে। আমি আশা করি আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলবে। আর তাদের হাত ধরে বাংলাদেশ একটি সফল সিরিজ উপহার পাবে। এরজন্য অবশ্যই আমাদের ব্যাটিংয়ে সাকিব, তামিম, মুশফিককে জ্বলে উঠতে হবে। আর বোলিংয়ে যে স্পিন অ্যাটাক; সাকিব, মিরাজ, তাইজুলদের ভালো করতে হবে। 

- সাকিব আল হাসান বলেছেন ২-০ সম্ভব। আপনি এই মন্তব্যের সাথে কতোটা একমত?

শাহরিয়ার নাফিস: আমি সাকিবের কথার সাথে শতভাগ একমত। ২-০ ব্যবধানেও সিরিজ জেতা সম্ভব।