(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক সদস্যপদ স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসন। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়নটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা কমাতে সুচিকে আহবান জানাচ্ছেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন তাকে দেওয়া সম্মানসূচক পদ ও ডিগ্রি স্থগিত করতে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে লড়াইয়ের সময় গৃহবন্দী থাকার মধ্যে ২০১০ সালে ইউনিসন মিয়ানমারের বর্তমান স্টেট কাউন্সিলর সু চিকে সম্মানসূচক সদস্যপদ দেয়। সংগঠনিটর সভাপতি মার্গারেট ম্যাককি গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে অং সান সু চির সম্মানিত সদস্যের পদ স্থগিত করা হয়েছে। আশা করছি আন্তর্জাতিক চাপে সাড়া দেবেন তিনি।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের স্টুডেন্ট ইউনিয়েনের সম্মানিত সভাপতির পদ থেকেও সু চিকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর কর্তপক্ষও। ডাবলিন ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ডসহ কয়েকটি শহর থেকে সু চিকে ‘ফ্রিডম অব সিটি’ সম্মাননা দেওয়া হয়। এসব সম্মাননা ফিরিয়ে নিতে শহর কতৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে।

এ ছাড়া সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক ডিগ্রি আবারও পর্যালোচনা করে দেখার কথা জানিয়েছে দেশটির ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে থাকায় আমার ১৯৯৮ সালে সু চিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই ডিগ্রির বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া একই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ক্যামব্রিজ, গ্লাসগো বাথসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও। এসব কর্তৃপক্ষ তাকে বিভিন্ন সময় সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছে। দাবি উঠেছে, ১৯৯১ সালে শান্তিতে দেওয়া সু চিকে নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ারও।

প্রিয় সংবাদ/রিমন