(প্রিয়.কম) শান্তিতে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে দেওয়া নোবেল ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির প্রধান বেরিট রেইস এন্ডারসন।

তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার নরওয়ে দেয়নি। পুরস্কার দিয়েছে নোবেল কমিটি। কাউকে যখন এই পুরস্কার দেওয়া হয়, তাকে আগের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে দেওয়া এই পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

এদিকে ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে চেঞ্জ ডট ওআরজি নামে একটি সাইটে সু চি’র নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া অনলাইন পিটিশনে ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল পর্যন্ত স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি’র নোবেল ফেরত নিতে অনলাইন পিটিশন।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি’র নোবেল ফেরত নিতে অনলাইন পিটিশন। ছবি: সংগৃহীত

পিটিশনে স্বাক্ষরকারীদের দাবি, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে ১৯৯১ সালে শান্তিতে যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তা নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ‘জব্দ’ করবেন অথবা ‘ফেরত নেবেন’।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শিকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। 

এর আগে, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির চালানো নৃশংতার প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে  সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ থাকবে বলে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গা।

নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

আর ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিথিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির পর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সফররত ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন হামলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বিপর্যয়ের শেষ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে ধরনের সিদ্ধান্তই নিক না কেন ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন পাবে তারা।’

এদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান। কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘তুরস্ক অসহায় এসব রোহিঙ্গার পাশে থাকবে।’

 

৮ সেপ্টেম্বর রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে মিয়ানমারের রাজস্ব বিভাগের ওয়েবসাইট (http://www.myanmarcustoms.gov.mm/হ্যাকের দাবি জানিয়েছে দেশের ইথিকাল হ্যাকার হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ সাইবার ৭১।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন