(প্রিয়.কম) এজন্যই বলা হয়, ক্রিকেট ভদ্র লোকের খেলা। প্রতিপক্ষের কেউ আঘাত পেলে এগিয়ে আসা বা প্রতিপক্ষের জুতার ফিতা বেঁধে দেওয়া এসব ক্রিকেট মাঠের পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু ভদ্রতার আরেক নজির দেখা গেল বিশ্ব একাদশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে।

পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্ব একাদশ নামে একটি দল পাঠিয়েছে। এই দলে খেলছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামীদামী ক্রিকেটাররা। আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হাসিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসি, বাংলাদেশের তামিম ইকবাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি, নিউজিল্যান্ডের লুক রঙ্কি, মরনে মরকেলের মতো ক্রিকেটাররা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটি ম্যাচই লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। যার প্রথম ম্যাচে মঙ্গলবার পাকিস্তান ২০ রানে বিশ্ব একাদশকে হারিয়েছে।

এই ম্যাচেই দেখা গেছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। শেষ ওভারে বিশ্ব একাদশের তখন প্রয়োজন ৩৪ রান। বল হাতে এলেন হাসান আলী। ব্যাটিংয়ে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এনে দেওয়া অধিনায়ক স্যামি। অপর প্রান্তে ছিলেন শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা।

প্রথম বলে ছয় হাঁকান স্যামি। পরের বলেই হাসান আলীর ইয়র্কার সামলাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান স্যামি। কিন্তু বোলারের কীর্তিতে স্যামি এতই আপ্লুত হয়ে যান যে, মাটিতে শোয়া অবস্থাতেই হাততালি দিয়ে বোলারকে সাধুবাদ জানাতে থাকেন। বোলারও ছুটে এসে হাত বাড়িয়ে স্যামিকে মাটি থেকে টেনে তোলেন।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের উপর সন্ত্রাসী হামলার পর, আর কোন দেশ পাকিস্তানে খেলতে আসেনি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে স্বল্প সময়ের জন্য সফরে গিয়েছিল পাকিস্তানে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আশা করছে বিশ্ব একাদশের এই সিরিজের পর পাকিস্তানে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরবে। 

প্রিয় স্পোর্টস/আশরাফ