(প্রিয়.কম) ত্বকে ব্রণের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কিছুদিন পরপরই দেখা যায় মুখের ত্বকে নতুন নতুন ব্রণের উৎপত্তি হচ্ছে। কোন অনুষ্ঠান থাকলে যেন কথাই নেই! ঠিক অনুষ্ঠানের আগের দিনেই ব্রণ তার অস্তিত্ব দেখা দেয়!

ব্রণ শুধুই যে ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করে দেয় তা কিন্তু হয়। ব্রণের সমস্যার ফলে মনও খারাপ হয়ে যায় খুব। কিন্তু কী করলে ব্রণ হয় এবং কী করলে ব্রণ হয় না, এমন একটা বহুল আলোচিত ব্যপার নিয়ে আমাদের সকলের মধ্যে রয়েছে কিছু ভ্রান্ত এবং ভুল ধারণা। যার ফলে, কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে ব্রণের সমস্যা অহরহ দেখা দেয় এবং ভালো হতে অনেক বেশী সময় নেয়।

জেনে নিন ব্রণের সমস্যা দূর করা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা যা আমরা সঠিক বলে জেনে আসছি এতোদিন ধরে।

১/ ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট সাহায্য করে থাকে

টুথপেস্টে থাকে বেকিং সোডা, এসেনশিয়াল অয়েল, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, মেনথল এবং ট্রাইক্লোসান যা ব্রণকে শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু টুথেপেস্ট থেকে ত্বকে র‍্যাশের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিতে পারে।

২/ মুখ অনেকবার করে পরিষ্কার করলে ব্রণ চলে যায়

ব্রণ এবং ব্ল্যাকহেডস হয়ে থাকে মুখের লোমকূপে ময়লা জমে থাকার কারণে। যে কারণে আপনি ভাবতে পারেন, অনেক বেশী বার মুখ ধুলে মুখের ব্রণ কমে যাবে। তবে আসলে সেটি হয় না! বরং অনেকবার করে মুখ ধোয়ার ফলে মুখের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করা অথবা স্পঞ্জ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা মুখের ত্বকের জন্যে ক্ষতিকর। সে কারণেই বলা হয়ে থাকে, প্রতিবার মুখ ধোয়ার পরে তোয়ালে দিয়ে খুব সাবধানে মুখ মোছা উচিৎ।

৩/ দুশ্চিন্তার কারণে ব্রণ হয়ে থাকে

আমরা অনেকেই এই ভুল তথ্য এবং ধারণা জেনে আসছি। তবে সত্যিটা হলো, দুশ্চিন্তা অথবা অধিক চিন্তার ফলে নতুন করে ব্রণ হয় না, বরং আগের থেকেই ত্বকে থাকা ব্রণ ভালো হতে অধিক সময় নেয় এবং ব্রণ আরো বেড়ে যায়।

৪/ রোদের আলো ব্রণের সমস্যা দূর করে

রোদের ইউভি (UV) রশ্মি সিবাম গ্ল্যান্ডের কাজ ত্বরান্বিত করে দেয় যার ফলে ত্বকে নতুন ব্রণের উৎপত্তি দেখা দেয়। ফলে রোদের আলোতে বের হবার সময় মনে করে অবশ্যই ভালো কোন ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিম ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে।

৫/ সকল ধরণের মেকআপ সামগ্রী ব্রণের জন্য দায়ী

অবশ্যই সকল ধরণের মেকআপ সামগ্রী ত্বকে ব্রণের জন্যে দায়ী নয়। সে জন্য আপনাকে বেছে বেছে আপনার ত্বকের সাথে মানানসই পণ্য ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় মেকআপের পণ্য কেনার সময় পণ্যের গায়ে ননকোমেডোজেনিক (Noncomedogenic) লেখা দেখে কেনা। কারণ এমন ধরণের পণ্য সমস্যাযুক্ত ত্বকের জন্যেই বিশেষভাবে বানানো হয়।

এছাড়া পণ্যের গায়ে উপাদানের তালিকায় যদি অ্যালকোহল এবং অয়েল লেখা থাকে তবে সেসকল পণ্য এড়িয়ে যেতে হবে।

৬/ খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসে ব্রণের উপর কোন প্রভাব ফেলে না

প্রাচীনকালে এমনকি কিছুদিন আগে পর্যন্তও এমন ধারণা পোষণ করা হত যে, ত্বকে ব্রণ তৈরি হবার সাথে খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু বর্তমান সময়ের গবেষণা জানাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন কথা।

চিনি ইনসুলিন তৈরি ত্বরান্বিত করে থাকে, যার ফলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইনসুলিনের আধিক্য দেখা দিলে ব্রণের উৎপত্তি দেখা দিতে থাকে। ব্রণ থেকে দূরে থাকার জন্যে যে কারণে হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (High Glycemic Index) জাতীয় খাবার যেমন: কোল্ড ড্রিংক্স, সাদা রুটি, চকলেট ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে। হাই গ্লাইসেমিক জাতীয় খাদ্য সাধারণত রক্তের সুগার লেভেল বাড়িয়ে দিয়ে থাকে, যার ফলে ত্বকে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

সূত্র: Bright Side   

সম্পাদনা: কে এন দেয়া