(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাদের গণহত্যা-ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য দেড় কোটি ডলার বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে (এসপিএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যুক্তরাষ্ট্র-আরব সম্পর্কবিষয়ক জাতীয় পরিষদ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যকার সহযোগিতা জোরদারে নিয়োজিত সমন্বয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের সৌদির রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা ও কিং সালমান সেন্টার ফর রিলিফ অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের তত্ত্বাবধায়ক ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাদশাহ সালমান সেন্টারের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা পর্যালোচনা এবং জরুরি ভিত্তিতে তাদের কী প্রয়োজন এবং ত্রাণ, মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের সাপেক্ষে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখবে। 

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে বেশ কিছু পুলিশ পোস্টে হামলার প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী নজিরবিহীন নৃশংস অভিযান পরিচালনা করে। খুন, কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা, ধর্ষণসহ নানাভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন অব্যাহত রাখে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। এতে নিহত হয় প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। জীবন বাজি রেখে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ফলে জনশূন্য হয়ে গেছে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ১৭৬টি গ্রাম। 

এদিকে সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর দ্বারা নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০ শতাংশ এখন বাংলাদেশে। বাংলাদেশ্মুখী রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এত সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব তাদের পক্ষেও নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় সংস্থাটি। 

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম যাদের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ইসলাম (প্রায় ৮ লক্ষ) ও ১০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত