(প্রিয়.কম) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১১ মাস পরে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গত বছরের ০৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবেরী ভবনে নিজ কক্ষ থেকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় তার কক্ষে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ। এই সূত্রে পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর থানায় আত্মহত্যায় পরোচনার মামলা করেন জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান।

গত মাসে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজশাহী নগরের মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজগোপাল। তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজা। ফাইল ছবি

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে পুলিশ। এতে নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাব জুবেরী ভবনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির নিজ কক্ষ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের কাছে আকতার জাহান জলির লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়। পরে জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতনামাদের নামে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর তালাইমারী এলাকা থেকে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজা আটক করে পুলিশ।

আকতার জাহান জলি ও তার ছেলে আয়মান সোয়াদ।

আকতার জাহান জলি ও তার ছেলে আয়মান সোয়াদ। ফাইল ছবি

প্রায় দুই দিন গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ০৫ নভেম্বর আকতার জাহানের আত্মহত্যার মামলায় আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এ ছাড়া আতিকুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘সুইসাইড নোট’ এ রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদ নিজের একমাত্র সন্তানের গলাই ছুরি ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তার সাবেক স্ত্রী আকতার জাহান। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে নানা রকম জল্পনা কল্পনা হতে থাকে।

অবশেষে তাদের ছেলে আয়মান সোয়াদ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আকতার জাহানের সুইসাইড নোটের দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার বাবা যেভাবে ছুরি ধরেছিলেন, সেই ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে লিখেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমার কাছে ওই ‘গলায় ছুড়ি’ ধরার ঘটনাটা জানতে চাওয়া হচ্ছে। আজকেই বলেই দেই, কি ঘটেছিল ওই দিন।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন