(প্রিয়.কম) সপ্তাহখানেক আগেই ঈদ-উল-আজহা পালিত হলো বেশ ধুমধাম করেই। যেহেতু কোরবানির ঈদ, সেহেতু ঈদের সময় কমবেশি আমাদের সবারই মাংস খাওয়া হয়েছে। অনেকে হয়তো স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কম খেয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন আবার অনেকে একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছেন। তারপর হয়তো খেয়াল করে দেখলেন যে সারা বছরের ডায়েট ভেস্তে গিয়েছে পুরোটাই। ওজন বেড়ে গিয়েছে বেশ অনেকখানি। বন্ধু, সহকর্মী কিংবা আত্মীয়রা হয়তো টিপ্পনি কাটছেন। তাদেরই বা থামাবেন কীভাবে? 

কিন্তু, দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আজকের ফিচারে আপনাকে জানানো হবে কিভাবে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ঝরঝরে হতে পারবেন কম সময়েই। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আপনার কঠোর পরিশ্রম এবং সাধনা দরকার। টিপসগুলো দিয়েছেন ফিটনেস ও ওয়েলনেস এক্সপার্ট 'মমিন এইচ রন'।

টিপস ১

আপনি এ ফিটনেস যাত্রাকে দু'ভাগে ভাগ করতে পারেন। এক, যারা ঈদের আগেও ডায়েট কন্ট্রোল করছিলেন এবং দুই, যারা ঈদের পরেই ফিটনেস জার্নি শুরু করতে চাচ্ছেন। 

টিপস ২

ঈদের সময়ের 'চিট মিল' কিংবা 'ইচ্ছেমতন খাওয়াদাওয়া' এর পর সবারই খুব বেগ পেতে হবে নতুনভাবে ডায়েট কন্ট্রোল করতে। যারা আগে থেকেই সচেতন ছিলেন, তাদের জন্য খুব সহজ হবে। একদিন সময় বের করে চার-পাঁচ দিনের খাবার প্রস্তুত করে রাখুন। তাতে করে ফ্রিজ খুললেই আপনার মনে থাকবে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কথা। 

টিপস ৩

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে গভীরভাবে। নিজেকে অনুপ্রাণিত করবেন যে 'আমাকে দিয়েই হবে'। যে মুহূর্তে আপনি স্বাস্থ্যকর জীবনের যাত্রা শুরু করলেন, তখন যেকোন ধরণের ভারী খাবারের কথা ভুলে যান। সেগুলো লোভনীয় হতে পারে কিন্তু আপনার জন্য ভয়ংকর শত্রু! 

টিপস ৪

ঈদের সময় আপনার কত কেজি ওজন বেড়েছে মেপে দেখুন। দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এগুলো ক্ষনস্থায়ী! বেশ কিছুদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার ওজন আগের অবস্থানে চলে আসবে। সাধনা গুরুত্বপূর্ণ এখানে।

টিপস ৫

অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলুন। প্রতিদিন অন্তত ২৫% সময় বেশি দিন কার্ডিও ব্যায়ামের জন্য। খুব বেশি চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শতকরা ২৫ ভাগ আপনার জন্য খুব বেশি নয়।

টিপস ৬

ডায়েট শুরু করার আগে আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনি কোন ধরণের প্ল্যান অনুসরণ করতে চান। অনেকগুলো পরিকল্পনা তালিকা আছে, সেখান থেকে যেকোন একটি ভালোমতন অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, সব ধরণের ক্রাশ ডায়েট এড়িয়ে চলবেন। এগুলো ফলো করলে আপনি হয়তো সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল পাবেন কিন্তু ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে আপনাকে। এটি কারোই কাম্য নয়।

টিপস ৭

ধীরে ধীরে শুরু করুন এবং টার্গেট অল্প রাখুন। প্রতিদিনের অল্প অল্প পদক্ষেপই আপনাকে গন্তব্যে পৌছতে সাহায্য করবে। বড় বড় লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়ে অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলার থেকে টার্গেট অল্প রাখা ভালো।

টিপস ৮

ডায়েট কন্ট্রোল করার জন্য সঠিক পরিবেশ নির্বাচন করুন। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে অসমর্থ হই পরিবার এবং বন্ধুদের প্ররোচনার ঠেলায়। হয়তো বাড়িতে একাই আপনি সুস্থ থাকার যাত্রায় আছেন এবং বাকিরা তৈলাক্ত ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে ভালোবাসে। তাদের মতবাদে অনুপ্রাণিত না হয়ে আপনি বরং তাদের শেখান কিভাবে পরিমিত পরিমাণ খাবার খেয়ে সুস্থ থাকা যায়। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেলেও এমন রেস্তোরাঁ পছন্দ করুন যেখানে দু'একটি পদ সবজিনির্ভর থাকে। 

টিপস ৯

নিজেকে সময় দিন। রাতারাতি এমন লাইফস্টাইলে আপনি অভ্যস্ত হবেন না। অন্তত সাত দিন কষ্ট করে হলেও এ ডায়েট মেনে চলুন। অতঃপর নিজেকে বারো সপ্তাহ সময় দিন। এভাবেই আপনি ওজন কমাতে সমর্থ হবেন। 

এই ছিলো আজকের টিপস। সহজ এ টিপসগুলো অনুসরণ করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না আপনার। মনে আরো শঙ্কা কিংবা প্রশ্ন থাকলে মেইল করতে পারেন এ ঠিকানায় '[email protected]' খুব কিন্তু কঠিন নয় এগুলো অনুসরণ করা, তাই না? নিশ্চিন্ত থাকুন এবং নেমে পড়ুন ফিটনেস জার্নিতে। শক্ত থাকুন, জয় হবে আপনারই।

সম্পাদনা: কে এন দেয়া