(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনা নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার রোহিঙ্গাদের খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

১১ ডিসেম্বর সোমবার থেকে ১৭ ডিসেম্বর রোববার পর্যন্ত শরনার্থী শিবিরে কাজ করা সকল বেসরকারি সংগঠনগুলোতে এ অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলি আহমেদ খাদ্য সহায়তা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ও অপচয়ের পরিপেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি প্রচুর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে এবং এগুলো অনেকসময় অপচয় হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে।’

আলি আহমেদ বলেন, ‘ডাব্লিউএফপি তাদের সবাইকে প্রতিমাসে খাবার দিচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন যেসব খাবার নিয়ে আসছে সেসব খাবার আবার আমরা তাদের মাঝে বিতরণ করছি। এমনকী অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও তাদের খাবার দিচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনও রান্না করা খাবার দিচ্ছে। ফলে অনেকসময় খাবার অপচয় হচ্ছে।’

খাদ্য কর্মসূচি এক সপ্তাহ বন্ধ থাকলেও এ সময় তাদের খাদ্যের কোনো অভাব হবে না এমনটাই জানান জেলাপ্রশাসক। তিনি বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আমরা তাদের খাদ্য সাহায্য দিচ্ছি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিরও হিসাব আছে পরিবারগুলোর কাছে কতটা খাবার আছে। কাজেই এর ফলে এ সময় কারোর জন্য খাবারের কোনো অভাব হবে না।’

এদিকে রোহিঙ্গরা ‘বাড়তি খাবার স্থানীয় বাজারে বিক্রি’ করে দিচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো প্রমাণ এখনও আমরা পাইনি। খাদ্য বিতরণ বন্ধের মূল লক্ষ্য খাবার যাতে অপচয় না হয় এবং খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা যাতে আরও কার্যকর করা যায় সেটাই নিশ্চিত করা।’

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ