(প্রিয়.কম) চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদত হোসেন অভিযোগ করেছেন, অসুস্থ রাজনীতি ও সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শাকুর কণ্ঠকে বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপাতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নির্দেশের অডিওতে তার কন্ঠ হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের যাওয়ার পথে ২৮ অক্টোবর শনিবার ফেনী ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সেসময় গাড়িবহরে থাকা সাংবাদিকদের ওপরেও হামলা এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

হামলার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে ফেনীর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদেরকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, বড় নিউজ হওয়ার জন্য বিএনপিই হামলার এই ঘটনা সাজিয়েছে। 

এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই ২৯ অক্টোবর রোববার রাতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিবেদনে অডিও টেপ প্রকাশ করা হয়, যাতে খালেদার গাড়িবহরে হামলার নির্দেশ দিতে শোনা যায় এক ব্যক্তিকে। ওই প্রতিবেদনে যে অডিও টেপ প্রকাশ করা হয়েছে, তা চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদত হোসেনের বলে অভিযোগ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। ৩০ অক্টোবর সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ হামলার বিষয়ে বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যে হামলা হয়েছে তা পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ডা. শাহাদত হোসেনের নির্দেশে এ হামলা হয়েছে। তিনি মোবারক নামে নোয়াখালীর এক কর্মীকে হামলার নির্দেশ দেন।’

এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ৩০ অক্টোবর সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদত হোসেন দাবি করেন, ওই অডিও’র কন্ঠটি তার নয়। 

গাড়িতে হামলা করছে দুর্বৃত্তরা। ফাইল ছবিগাড়িতে হামলা করছে দুর্বৃত্তরা। ফাইল ছবি

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রমূলক নিউজ দৈনিক খবর২৪ডটকম নামে ভুয়া-ভুইফোঁড় একটি অনলাইন নিউজ ছেপেছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যার কণ্ঠের সঙ্গে এ কণ্ঠ মিলে যায়, তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে এ ঘটনা সারা বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে জানানোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপির এ নেতার দাবি, ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা ফেনীতে চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলা করেছে, যা স্থানীয় লোকজন আমাদের জানিয়েছেন।’

হামলাকারীদের একটি তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। ওই তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন- সোনাগাজী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব রবিন, ফেনী কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সবুজ, সরসদী মাদরাসা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক ফরহাদ, ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা বেলাল, সরসদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম ভুইয়া ও তার গানম্যান সুমন, ইউনিয়ন যুবলীগকর্মী মানিক।

‘হামলার মূল দায়িত্বে আওয়ামী লীগ নেতা ও ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন শাকু রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে আমরা জেনেছি’, বলেন ডা. শাহাদত হোসেন। 

মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে অখ্যাত ওই অনলাইন পত্রিকার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করার কথাও জানান এই বিএনপি নেতা।

সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়িবহরের দিকে হামলার নির্দেশ দিতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন যুবককে। ফাইল ছবিসড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়িবহরে হামলার নির্দেশ দিতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন যুবককে। ফাইল ছবি

৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কাউকে মারা তো দূরের কথা, চড়-থাপ্পড়ের নির্দেশ দেইনি মন্তব্য করে ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, ‘আমি ১৮ বছর ধরে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত আছি। আমার সামাজিক স্ট্যাটাস রয়েছে। বাংলাদেশে আমাকে সবাই চেনে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সবাই আমার কণ্ঠের সঙ্গে পরিচিত। আমি নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছি, টক শোতে যাই। লোকজন আমার কণ্ঠ শুনবে নাই, এরকম বাংলাদেশের মানুষ থাকতে পারে না।’

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনসহ নগর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত