(প্রিয়.কম) যে কোনো উৎসবে জন মানুষের ঢল নামে উৎসব যাপনে। তবে এইসব উৎসবের মাঝেও এক ধরনের বিকৃত মানুষ খুঁজে বেড়ায় নিজেদের বিকৃত আনন্দ। বর্ষবরণে গণ শ্লীলতাহানীর ঘটনা যেন এখন একটি নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৫ সালে ঢাকার টিএসএসিতে এই রকম এক ভয়াবহ ঘটনা উৎসবের আনন্দকে ভীতিময় করে তুলে। পরবর্তীতে সিসিটিভিতে এই ঘটনার সত্যতা মিললেও, অভিযুক্ত কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না।

শুধু যে আমাদের দেশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সে রকম কিন্তু নয়। বর্ষবরণের রাতে গণ শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। ভারতের বেঙ্গালুরুতে বছর শেষের রাতে এই রকম এক ভয়াবহ ঘটনার ছবি ভাইরাল হয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় হয়ে উঠে। সেই রাতের ওই ভিডিওতে দেখা যায় নতুন বছরকে বরণ করার উছিলায় কতিপয় বিকৃত মস্তিষ্কের যুবকরা কিভাবে নারীদের শ্লীলতাহানি করছিল।

সেই একই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটলো এবার হায়দ্রাবাদে। গনপতি বিসর্জনের ভাসান অনুষ্ঠানে গণ অশ্লিতার কবলে পড়লেন এক দল নারী, এমন কি বিকৃত যৌন লালসায় আক্রান্ত ওই সকল যুবকদের হাত থেকে রক্ষা পেল না নাবালিকা এবং কিশোরীরাও। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ মহিলা পুলিশের পক্ষ থেকে এমনই একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ‘গনপতি বাপ্পা মরিয়া’ বা ‘জয় গনেশ দেবা’ স্বরে যখন সবাই মাতোয়ারা, সে সময় জনা তিরিশেক মস্তিষ্ক বিকৃত ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে নারীদের পিছনে দাঁড়িয়ে অশ্লীলভাবে তাদের গায়ে স্পর্শ করছিল।

হায়দ্রাবাদে গনপতি বিসর্জনের দিনে শ্লীলতাহানির ভিডিও ফুটেজ। ছবি: সংগৃহীত।

ভিডিওটিতে নারীদের প্রতি নিগৃহের এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে সর্বস্তরে নিন্দার ঝড় উঠছে। ধর্মীয় একটু উৎসবে এই ধরনের ঘটনাকে কিছুতেই মানতে পারছেন না দেশটির ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। ওই ঘটনার পরপর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হাতেনাতে ধরা পড়ে বিকৃত রুচির ওই ব্যক্তিরা। তবে ভিডিওটি প্রচারের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিকভাবে অসুস্থ ওই ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচিত করা।

হায়দ্রাবাদের গনেশ বিসর্জনের ওই ঘটনাই হোক কিংবা ঢাকার টিএসসিতে বর্ষবরণের দিন ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনা- এ ধরনের ঘটনা বারবার একই জিনিষই প্রমাণ করে- উপমহাদেশের ছোট কিংবা বড় শহর, কোথাওই নারীরা নিরাপদ নন। পোশাক, ধর্ম, বর্ণ বা বয়স- কোনোকিছুই নারীকে লাঞ্ছিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারছে না।

 প্রিয় জটিল/গোরা