(প্রিয়.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘রোহিঙ্গারা তাদেরই দেশের নাগরিক। কোনো দেশের মানুষ অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকা তো সে দেশের জন্য সম্মানজনক না। এটা মিয়ানমারকে উপলব্ধি করতে হবে। যারা আমাদের দেশে চলে এসে আশ্রয় চাচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া উচিৎ, ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ, তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিৎ।’

৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সব কথা বলেন তিনি। বর্তমানে মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে। এদের ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনও নিতে দেখা যায়নি মিয়ানমারকে।

রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা। এদের ফিরিয়ে নিতে কোনো ধরণের উদ্যোগ দেখা যায় নি মিয়ানমার সরকারের। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ৭৮ সাল থেকে রিফিউজি ঢুকছে। রেজিস্ট্রার্ড যা আছে, তার থেকে আনরেজিস্ট্রার্ড বেশি। মিয়ানমারে একেকটা ঘটনা ঘটে, সেখান থেকে লোক চলে আসে। এই যে একেকটা ঘটনা ঘটছে, আর মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়ের আশায় ছুটে আসছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের সহযোগিতা করতে।’

সম্প্রতি সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পালিয়ে আসা শরণার্থীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে মানবেতর অবস্থা হচ্ছে, এই নারী ও শিশুরা যে কষ্ট পাচ্ছে। দুধের শিশুরা মারা যাচ্ছে, নারীরা মারা যাচ্ছে। এটা শুনতেই কষ্ট লাগে। এটা সহ্য করা যায় না।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শিকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। 

এর আগে, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির চালানো নৃশংতার প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে  সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ থাকবে বলে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিথিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির পর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সফররত ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন হামলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বিপর্যয়ের শেষ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে ধরনের সিদ্ধান্তই নিক না কেন ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন পাবে তারা।’

এদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান। কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘তুরস্ক অসহায় এসব রোহিঙ্গার পাশে থাকবে।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন