(প্রিয়.কম) মিয়ানমারকে শাস্তি দেওয়া নয় বরং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করাই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেকেন্ডারি টমাস শ্যানন।

৫ নভেম্বর রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠ অংশীদারিত্ব সংলাপ শেষে আয়াজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

টমাস শ্যানন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান করা।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে জোরালো সমর্থক। অংশীদারিত্ব সংলাপে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

এর আগে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপে অংশ নিতে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছান টমাস শ্যানন। পরে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দিনব্যাপী অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। টমাস শ্যাননের সফরের আগে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এবাবের অংশীদারিত্ব সংলাপে রাজনীতি, উন্নয়ন ও সুশাসন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য বিনিয়োগ ও শ্রমিক ইস্যু ইত্যাদি আলোচিত হবে। তবে আলোচনাপূর্বক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হবে। 

৫ ও ৬ নভেম্বর ঢাকায় অবস্থানকালে শ্যানন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাইমন হেনশ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি ছোট ও জনসংখ্যা আধিক্যের দেশ বিপুল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে। এজন্য বাংলাদেশ প্রশংসার দাবিদার। আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি এবং সমস্যাটির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত থাকব।’

৪ নভেম্বর শনিবার ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব মিয়ানমারের এবং প্রক্রিয়া শুরুর দায়িত্বও তাদের। রোহিঙ্গারা যেন স্বেচ্ছায় ফিরতে পারেন, সেজন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত এলাকা মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’ 

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপের বিষয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে একবার ওয়াশিংটন, একবার ঢাকায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৪ জুন ওয়াশিংটনে পঞ্চম অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত