(প্রিয়.কম) বিগত দুই মাসের সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। নেপিডোতে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল চ সুয়ি এবং পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠকের পর আসাদুজ্জামান খাঁন টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দুই দেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে খুব শিগগিরই একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। তিনি নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে এই যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথ এই কমিটি ঠিক করবে রোহিঙ্গাদের কীভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

মিয়ানমার সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক। ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ফেসবুক থেকে নেওয়া

মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক। ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ফেসবুক থেকে নেওয়া

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ফেরত নেওয়ার কথা বলেছে। তারা জানিয়েছে তাদের সরকার প্রধান কফি আনান কমিশন বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি কমিটি তৈরি করেছেন...কিন্তু আমরা বলেছি বাংলাদেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির তত্বাবধানেই কফি আনান কমিশনের বাস্তবায়ন হতে হবে।’

তবে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের ওই কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে যা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, তিনি রাখাইনে নির্যাতন বন্ধের দাবি করেছেন যাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়।  এসময় তারা বলেছেন, ‘কোনো নির্যাতন হচ্ছেনা, তারা (রোহিঙ্গারা) নিজেরাই চলে যাচ্ছে’। আমি বলেছি, চলে যাওয়া ঠেকান আপনারা।

স্রোতের মত বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। ছবিটি ইউএনএইচসিআর এর ড্রোন থেকে তোলা

প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের মত বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। ছবিটি ইউএনএইচসিআর এর ড্রোন থেকে তোলা

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্বীকার করেন, তিনি নিজে রাখাইনে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাননি।

তিনি বলেন, সীমান্তে মাইন পাতার প্রসঙ্গ তোলার পর, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ‘অন্যদের’ দোষারোপ করেছে। তবে মিয়ানমার বলেছে তারা মাইন অপসারণের উদ্যোগ নেবে।

মিয়ানমার সফররত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার তার সাথে অং সান সূ চির বৈঠক হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের এসব দাবি, প্রস্তাব এবং বক্তব্য তখন তিনি আবারো তুলবেন। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ 'আরসা জঙ্গিদের' ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/রিমন