(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ৭১ হাজার একর জমির ধান কেটে নেওয়া শুরু করেছে মিয়ানমার কৃষি বিভাগ। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে গতকাল শনিবার থেকে এই ধান কাটা শুরু হয়েছে। সেনা অভিযানের মুখে চাষ করা ওই ধানের জমি ফেলেই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

তবে এসব ধান কি করা হবে তা জানা যায়নি। মংডুর কৃষি বিভাগের প্রধান ওথইন ওয়াই ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশিদের জমির ধান কেটে নেওয়া শুরু করেছি।’ রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে মিয়ানমার রাখাইনের এই জনগোষ্ঠীকে অবৈধ বাংলাদেশি বলে আখ্যা দিয়ে থাকে।

শনিবার শুরু হওয়া এই ধান কাটায় কৃষি বিভাগের যন্ত্রের সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমারের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষ।

মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে পদ্ধতিগত তৎপরতার একটি অংশ হলো এই ধান কেটে নেওয়া।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা ফিল রবার্টসন বলেছেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের এই ধান কেটে নেওয়ার নেতৃত্ব দেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে এই বার্তা দেবে যে, তোমরা যা ফেলে গেছ এখন তা আমাদের। সুতরাং তোমরা ফিরে এসো না।’

রাখাইনে নিজের জমির ধান কেটে নিলেও বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে ত্রাণের জন্য লড়াই করতে হয় রোহিঙ্গাদের। সংগৃহীত ছবি
রাখাইনে নিজের জমির ধান কেটে নিলেও বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে ত্রাণের জন্য লড়াই করতে হয় রোহিঙ্গাদের। সংগৃহীত ছবি

ফর্টিফাই গ্রুপ ধান কেটে নেওয়ার পদক্ষেপকে ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ভুমি দখল করে নেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের একটি অংশ।

রোহিঙ্গাদের চাষ করা জমির ধান মিয়ানমার কেটে নিলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হওয়া ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা খাবার আর আশ্রয়ের জন্য সংগ্রাম করছে। শরণার্থী শিবিরের তাবুতে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে তারা।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে পালাতে শুরু করে রোহিঙ্গা। রাখাইনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শত শত গ্রাম। ধর্ষণ করা হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারীকে। সবকিছু ফেলে পালাতে বাধ্য হয়েছে রোহিঙ্গারা। জাতিসংঘ এই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ বলেও আখ্যা দিলেও তা অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ