(প্রিয়.কম) কখনো কি এমন হয়েছে আপনার, ড্রামের দামামা অথবা গিটারের ঝংকার শুনে মুহূর্তের মাঝেই কাঁপুনি বয়ে গেছে শিরদাঁড়া বেয়ে, অথবা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠেছে? তা যদি হয়ে থাকে, তাহলে আপনার জন্য রয়েছে দারুণ একটি সুখবর। সঙ্গীত শুনলে এমন প্রতিক্রিয়া যাদের শরীরে দেখা যায়, তাদের মস্তিষ্কটা হয়ে থাকে অন্যদের চাইতে আলাদা। 

আলিসা ডার সারকিসিয়ান, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার (USC) ব্রেইন অ্যান্ড ক্রিয়েটিভিটি ইন্সটিটিউটের এক রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট, এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেন রেডিওহেড ব্যান্ডের ‘ন্যুড’ গানটি শোনার সময়ে। “আমার মনে হচ্ছিল গানের সাথে এক হয়ে যাচ্ছে আমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের গতি ধীর হয়ে আসছে আর এই গানের অনুভূতি আর আমার শরীরের প্রতিক্রিয়া- সবটাই আমি আরো ভালো করে বুঝতে পারছিলাম।“ ব্যাখ্যা করেন তিনি। 

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী তার বন্ধু এবং USC এর পিএইচডি শিক্ষার্থী ম্যাথিউ স্যাকসের সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করেন। গান শুনে যাদের শরীরে কাঁটা দেয় এবং যাদের দেয় না- এই দুই ধরণের মানুষের মাঝে তারা পার্থক্য খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করেন।  

সোশ্যাল কগনিটিভ অ্যান্ড অ্যাফেকটিভ নিউরোসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয় তাদের এই গবেষণার তথ্য। দেখা যায়, যাদের শরীর গান শুনে শিউরে ওঠে, তাদের মস্তিষ্কে আসলেই আছে বিশেষ কিছু। তাদের অডিটরি করটেক্সের সাথে মস্তিষ্কের অনুভুতির অংশটি যুক্ত থাকে তুলনামূলকভাবে বেশি তন্তু দিয়ে। সহজভাবে বলতে গেলে এর অর্থ হলো, সঙ্গীত শুনলে যদি আপনার গায়ে এমন কাঁটা দিয়ে ওঠে, তারমানে আপনার অনুভূতিগুলো হয় অন্যদের চাতে আলাদা। 

“মস্তিষ্কের দুটো অংশের মাঝে বেশি তন্তু থাকার অর্থ হলো এদের মাঝে অনুভূতি গ্রহণ ও ধারণের প্রক্রিয়াটা অনেক বেশি কার্যকরী,” ব্যাখ্যা করেন স্যাকস, জিনি এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন।  নিউরোসায়েন্টিস্ট এবং সাইকোলজিস্টদের জন্য বেশ অদ্ভুত এই গবেষণার ফলাফল। কারণ বিবর্তনের ধারায় সঙ্গীতের প্রতি এমন প্রতিক্রিয়ার আসলে কোনো সুফল দেখা যাচ্ছে না। তবে দর্শনের দিক দিয়ে একে ব্যাখ্যা করাও যেতে পারে। “পৃথিবীর সব সংস্কৃতিতে সঙ্গীতের স্থান আছে, এর কারণ হয়তো সরাসরি তা আমাদের মস্তিষ্কের অনুভূতির অংশটির সাথে যুক্ত,” বলেন এই গবেষণার লেখকেরা। 

সূত্র: IFLScience, The Independent

সম্পাদনা: রুমানা বৈশাখী