(প্রিয়.কম) সুইডিশ টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসন বাংলাদেশে কর্মী ছাঁটাই বন্ধে সেখানে ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। কর্মীরা বলছেন, দাবি আদায়ে আমরা ‘এলএম এরিকসন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ' নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠন করেছি। 

গত ৫ মে ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ১৬ মে শ্রম পরিদফতর বরাবর ইউনিয়ন গঠনের অনুমোদন নিতে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। ২১ মে সন্ধ্যায় সাধারণ সভা ডেকে নতুন ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। উক্ত সভায় ৭০ জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, ‘এরিকসনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেই এই ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে এপিএম গ্লোবাল লজিস্টিক বাংলাদেশ এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন থেকে মেহেদী হাসান, সেভরন বাংলাদেশ ইমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আবেদিন, বাংলালিংক এমপ্লয়ীজ ইউনিনের সভাপতি গোলাম মাহমুদ সোহাগ, একসেঞ্চার ইমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, ইউনি বিএলসি কো-অডিনেটর একেএম মোস্তফা কামালসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। 

এরিকসনে বর্তমানে মোট কর্মী রয়েছেন ২৭০ জন। এর মধ্যে ইউনিয়নের জন্য শ্রম আদালতে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় চারজন নারীসহ ১০৬ জন সদস্য ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হোন। তবে এরপর আরও ৪০ জন নতুন করে সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে ইউনিয়নের মোট সদস্য সংখ্যা ১৪৬ জন। 

শ্রম অধিদফতরে জমা দেওয়া কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে এলএম এরিকসন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ নামের নতুন এই ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন ৯ জন। তাদের মধ্যে সভাপতি এএইচএম সালেহিন এবং সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান আকন্দ। ইউনিয়নের কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে বাড়ি-৪৪৬ (নিচ তলা), পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। 

এরিকসন বাংলাদেশের একজন কর্মী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বিনা নোটিশে এবং কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই, শত শত প্রকৌশলীদের বছরের পর বছর অস্থায়ী করে রাখা, দেশের সাংবিধানিক থেকে উৎসারিত মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট টিমের নব্য উপনিবেশিক মানসিকতা থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ন্যায় শোষণের জাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের শত শত প্রকৌশলী ও কর্মীরা। ফলে আমাদের ইউনিয়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।’

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ

 

আরও পড়ুন - 

>> এরিকসন বাংলাদেশে ৫০৯ কর্মী ছাঁটাই