(প্রিয়.কম) প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার জহির রায়হানের আজ ৮২তম জন্মদিন। দেশের চলচ্চিত্রের অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। শুধু চলচ্চিত্র অঙ্গনেরই নন, বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের সাহিত্যে রয়েছে তার কালজয়ী কাজ। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জহির রায়হান ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে পাড়ি জমান ভারতের কলকাতায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ববাসীকে জানান দিতে তিনি নির্মাণ করেন প্রামাণ্যচলচ্চিত্র স্টপ জেনোসাইড। এছাড়াও সে সময় তিনি চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকার পরও তার নির্মিত জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রটি কলকাতায় প্রদর্শনীর পুরো টাকা মুজিবনগর সরকার এবং মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে প্রদান করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি, পরবর্তীতে বহু বছর পর তার নিহত হওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন ৩০ জানুয়ারি মিরপুর বিহারী পল্লিতে অবস্থানরত কয়জন প্রত্যক্ষদর্শী। ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার আগ মুহূর্তে জহির রায়হানের সাথে ছিলেন তার চাচাতো ভাই খ্যাতিমান লেখক এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। জহির রায়হানের জন্মবার্ষিকীতে প্রিয়.কমের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

প্রিয়.কম: জহির রায়হান নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৪৫ বছর হয়ে গেছে, তিনিসহ অন্য বুদ্ধিজীবিদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর বিষয়ে কি কোনো তদন্ত কমিটি আদৌ গঠণ করা হয়েছিলো?

শাহরিয়ার কবির: বাস্তবতা হচ্ছে- কমিটির দাবী আমরা অনেক আগেই করেছিলাম, কমিটি করার কথা আমাদের জানালেও সে রকম কিছু হয়নি। ১৯৯৯ সালে ভোরের কাগজ একটা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করেছিল, পরে সেটা বই আকারে বের হয়েছে। সেখানেই আমরা প্রথম জানলাম- তিনি নিখোঁজ নন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে অবস্থান করছিলেন এবং তাকে গুলি খেয়ে মারা যেতে দেখেছেন, এই রকম চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সেখানে ওই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

প্রিয়.কম: ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হলেও, ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান দেশের জন্যই প্রাণ দিয়েছেন। তিনি আমাদের দেশের সম্পদ ছিলেন, কিন্তু শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তার নাম নেই কেন?

শাহরিয়ার কবির: এটা আমরা যারা তার পরিবারের সদস্যরা আছি, তারা বারবার এই দাবী জানিয়েছি। যদিও সরকার তার নামে একটি অডিটোরিয়াম এবং এফডিসিতে একটি কালার ল্যাব করেছে। কিন্তু তার ফ্যামিলি এটা ডিজার্ভ করে যে- শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাকে সম্মানিত করা হোক।

প্রিয়.কম: বঙ্গবন্ধু তার প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী সুমিতা দেবী এবং দ্বিতীয় স্ত্রী আরেক খ্যাতিমান অভিনেত্রী সুচন্দাকে দুটি বাড়ি বরাদ্দ করেছিলেন। দুটি বাড়িই পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকার এসে ফিরিয়ে নেয়, সরকার থেকে তার পরিবারের জন্য আর কোনো সহযোগীতা করা হয়েছে বা হচ্ছে কি?

শাহরিয়ার কবির: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার পুত্রদের জন্য একটা বাড়ি বরাদ্দের কথা চার বছর আগে বলেছিলেন, এখনও পর্যন্ত সেই বাড়িটা বরাদ্দ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু, সুমিতা ভাবির পরিবারকে মোহাম্মদপুরে একটি ছোট্ট বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছিলেন, কিন্তু খালেদা-নিজামী সরকার ক্ষমতায় এসে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে এই পরিবারটিকে ওই বাড়ি থেকে উৎখাত করে। পরে যখন তার ছেলে বিপুল অসুস্থ হলো; হাসপাতালের বিল বাকি পড়লো, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করলাম, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিপুলের চিকিৎসার পুরোটা ভার বহন করেছিলেন। তখন তিনি একটি বাড়ি বরাদ্দের ব্যাপারেও কথা দিয়েছিলেন, এখনও সেটি কার্যকর হয়নি। জহির রায়হানের ছেলেরা কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে কেউ-ই খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। সুচন্দাকে যেই বাড়িটি বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেটাও জিয়া রহমানের আমলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এটা আমরা দাবী জানাবো যে সরকার যেন- অবিলম্বে জহির রায়হানের পুত্রদের জন্য বাড়ি বরাদ্দ করে এবং তার নাম যেন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে। তাকে বুদ্ধিজীবী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না, কারণ বলা হচ্ছে দেশ স্বাধীনের পরে তার মৃত্যু হয়েছে। মিরপুর তো এই দেশেরই অংশ, মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন ছিলো সেটা। দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর কিন্তু মিরপুরকে শত্রু মুক্ত করা হয়েছে ৩১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে। মিরপুরকে শত্রু মুক্ত করতে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছেন। আমাদের পুলিশের, আর্মির একশরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা ৩০ জানুয়ারি শহীদ হয়েছেন। এরা তো সবাই মিরপুর মুক্ত করতে গিয়েই শহীদ হয়েছেন, তাহলে কেনো তাদের নাম শহীদের তালিকায় থাকবে না?

জহির রায়হান

প্রিয়.কম: আপনার রচিত একটি বই আছে- একুশে ফেব্রুয়ারি-জহির রায়হান নামে, তার ১৩-১৬ পৃষ্টায় আপনি লিখেছেন- জহির রায়হান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আগরতলায় যান এবং সেখানে অবস্থানকালে তিনি প্রবাসী আওয়ামী লীগ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের রোষানলে পড়েন।

শাহরিয়ার কবির: হ্যাঁ, কারো কারোর রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী যে ছিলেন মান্নান সাহেব তিনি সমস্যা সৃষ্টি করেছিলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের একটা অবজেকশন ছিল- স্টপ জেনোসাইড এ বঙ্গবন্ধুর নাম কেনো মেনশন করা হয়নি। এটা নিয়ে অনেকদূর বাহাস হয়েছিল, ইন্দিরা গান্ধীর কান পর্যন্ত এই ঘটনা গিয়েছিল। সরকারের মধ্যে তো অনেক ধরণের লোক থাকে- খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুরসহ বঙ্গবন্ধুর খুনে জড়িত অনেকেই তো মুজিবনগর সরকারে ছিল, এটা ভুলে গেলে তো চলবে না। মুজিবনগর সরকার মানেই যে সবাই তাজউদ্দিন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তা তো না! সেখানে বিরুদ্ধ পক্ষ ছিল, তারা বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে অনেক কিছু করেছে। সুতরাং কেউ কেউ সে সময় জহির রায়হানের বিপক্ষেও ছিলেন।

প্রিয়.কম: তৎকালীন পাকিস্তানের সবচেয়ে ধনী চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে একজন ছিলেন জহির রায়হান, কিন্তু যুদ্ধের সময় তিনি আর্থিক কষ্টে ভুগছিলেন...

শাহরিয়ার কবির: কলকাতায় গিয়ে তিনি জীবন থেকে নেওয়া প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন এবং দেড় লাখ টাকার উপরে পেয়েছিলেন সেখান থেকে, পুরো টাকাটাই তিনি মুজিবনগর সরকারকে দিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তার দুটো ছেলেই বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাচ্ছিল, আমি নিজে গিয়ে দেখেছি- সুচন্দা ভাবি এবং অপু-তপুকে। উনি শুটিংয়ে চলে গেছেন; ওদের জ্বর হয়েছে, বাসায় কাজের লোক নেই, ফ্লোরের মধ্যে পড়ে আছে। এই দুর্ভোগগুলো তো আমি নিজের চোখে দেখেছি। উনি নিজের কথা কখনো ভাবেননি। পাকিস্তানের সবচেয়ে ধনী চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। যুদ্ধের বহু আগে তিনি সবচেয়ে দামী গাড়ি চালিয়েছেন, সেটা মুক্তিযুদ্ধের জন্য দিয়ে গেছেন। মাওলানা ভাসানির গাড়ি নেই, কাজী জাফর এসে তার গাড়ি নিয়ে গেছেন, সেটা আর ফেরত পাননি। জহির রায়হানের ছেলেরা তো এখনো স্ট্রাগল করছে, তার পুত্র হিসেবে তাদের যেই প্রোপার এডুকেশন প্রয়োজন ছিল; তারা সেটাও পায়নি, কোনোমতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছে।

প্রিয়.কম: তার মতো একজন ব্যক্তির সন্তানরা জীবন ধারণের জন্য এখনো স্ট্রাগল করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেনো?

শাহরিয়ার কবির: এটা সরকারকে আমরা অনেকদিন আগে জানিয়ে এসেছি, কিন্তু জানানো হয়েছিল যখন জহির রায়হানের পুত্র বিপুল অসুস্থ হয়। জহির রায়হানের পুত্রের চিকিৎসার বিল দেওয়া যাচ্ছিল না! তখন গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হই। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পুরো ট্রিটমেন্টের ব্যায় বহন করেছেন এবং তখনই তিনি জহির রায়হানের পুত্রদের একটি বাড়ি বরাদ্দের কথা বলেছিলেন। এখনও পর্যন্ত মন্ত্রণালয়গুলো সেটা করেনি। তার ছেলেরা ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়ে, মন্ত্রণালয়ে যাওয়া এখন বন্ধ করে দিয়েছে। একবার নাকি মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে বলা হয়েছে দেড় কাঠার উপর কোথায় একটা কামরা আছে, সেটা নেওয়ার জন্য। এগুলো খুব অপমানজনক কথা। এই রাষ্ট্রের কাছে জহির রায়হানের ছেলেদের কি দেড় কাঠা জমি পাওনা? যাই হোক একাত্তরের ঘাতকরা এখনো প্রতিটা জায়গায় এখনো রয়ে গেছে, ফলে তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের অবমাননা-অবমূল্যায়ন করবে, অবাক হওয়ার কিছু নেই।

জহির রায়হানের কোলে বিপুল রায়হান

প্রিয়.কম: ভারত থেকে ফিরে আসার পর জহির রায়হান নাকি বলেছিলেন- যুদ্ধের নয় মাস আমি কলকাতায় ছিলাম, আমি দেখেছি সেখানে কে কি করেছে। উনি আসলে কাদের কথা বুঝাতে চেয়েছিলেন বলে আপনার মনে হয়?

শাহরিয়ার কবির: হ্যাঁ হ্যাঁ, বলেছেন। কে কি করেছেন, তা তো বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরা জেনেছি। এরাই তো ছিল মুজিবনগর সরকারে। যুদ্ধের সময় ইনফরমেশন মিনিস্ট্রি দেখতো তাহের উদ্দিন ঠাকুর। তাহের উদ্দিন ঠাকুর কে ছিলেন? চার জাতীয় নেতার হত্যাকারী ছিলেন তিনি। মাহবুব আলম চাষী কে ছিলেন? উনি তো সিনিয়র সেক্রেটারি ছিলেন মুজিবনগর গভমেন্টের। খন্দকার মোশতাক ফরেন মিনিস্টার ছিলেন। এরাই তো ষড়যন্ত্রকারী, সেখানে বসেও তারা নিশ্চয় ষড়যন্ত্রই করেছেন। কিন্তু তাজ উদ্দিন আহমেদের লাইফ স্টাইল দেখেন- দুইটা মাত্র তার কাপড় ছিলো, নয় মাস তিনি তার ফ্যামিলির সাথে মিট করেননি, তার ছেলে মারা যাওয়ার দশা হয়েছিল, ছেলেকে পর্যন্ত দেখতে যাওয়ার সময় হয়নি তার। মুজিবনগর সরকার এবসলিউট কিছু ছিল না, সেখানেও কুচক্রী ছিল, পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে যাদের হাতে জীবন দিতে হয়েছে। মোশতাকরা তো সে ডিমান্ড যুদ্ধ চলাকালীন সময়ই নিয়ে এসেছিল- যে বঙ্গবন্ধু নাকি স্বাধীনতা? তাজউদ্দীন সাহেব বলেছিলেন আমি বঙ্গবন্ধুও চাই, স্বাধীনতাও চাই।

প্রিয়.কম: শুধু তো চলচ্চিত্রকার হিসেবে নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জহির রায়হানের জন্য যে অবদান, অবশ্যই তা অনস্বীকার্য...

শাহরিয়ার কবির: একাত্তরে আপনি যদি দেখেন, মুক্তিযুদ্ধের কালচারার ভিতটি তৈরি করেছে জীবন থেকে নেওয়াআমার সোনার বাংলা প্রথম সেখানে ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, ইয়াহিয়া খানের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রথম তিনি সিনেমায় নিয়ে আসলেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে থেকে বাঙালির জাতীয়তাবাদ বলুন বা আমাদের যে নতুন একটা জাতিসত্তা- এগুলোকে ধরে রাখতে পরবর্তীকালে যারা সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বা জাতীয় মুক্তির ভিতটা তৈরি করেছেন, সাংস্কৃতিক ভিতটা তৈরি করেছেন তাদের মধ্যে জহির রায়হান অন্যতম প্রধান একজন সংগঠক।

প্রিয়.কম: তাহলে চলচ্চিত্র অঙ্গন ছাড়া সর্বক্ষেত্রে কেনো জহির রায়হানের নাম সেভাবে উচ্চারিত হয় না?

শাহরিয়ার কবির: এটা আমাদের হীনমন্যতা। আমাদের সাহিত্য নিয়ে যারা আলোচনা করেন, তারা জহির রায়হানের সাহিত্যকে সেভাবে মূল্যায়ন করেন না। বাংলা একাডেমির উচিৎ জহির রায়হানের সাহিত্য কর্মগুলো অনুবাদ করানো, বাইরে প্রচার করা। হাজার বছর ধরে একটি অসাধারণ উপন্যাস। কিন্তু এখানে বহু সাহিত্য সমালোচক আছেন যারা জহির রায়হানের সাহিত্য কর্মগুলোকে তারা ওইভাবে মর্যাদা দিতে চান না। চলচ্চিত্রকার ছাড়াও, লেখক হিসেবে তার যে একটা সত্তা এবং সেই সত্তাটা যে আনকম্প্রোমাইজিং ভাষা আন্দোলনের জেলখাটা লেখক- সেভাবে তো তার মূল্যায়ন হয় না।

প্রিয়.কম: ৩০ জানুয়ারি ওনার নিখোঁজ হওয়ার দিন তো আপনি তার সঙ্গে ছিলেন, আপনার সাথে তার শেষ কি কথা হয়েছিল?

শাহরিয়ার কবির: সেদিন সকালে জহির রায়হানের কাছে একটি ফোন আসে- শহীদুল্লাহ কায়সারকে মিরপুর বিহারীপল্লিতে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি আমাকে এবং আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। ছয় নম্বর সেকশনের পুলিশ ক্যাম্পে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আমাদের গাড়ি আটকালেন। তারা তখন ১২ নম্বর সেকশনে রেইড করার জন্য যাবে, ফলে কোনো সিভিলিয়ানকে তারা সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিতে চাচ্ছিলেন না। জহির রায়হান মেজর মঈন যিনি পরে জেনারেল হয়েছিলেন, তাকে বলেছিলেন- আপনারা তো শহীদুল্লাহ কায়সার বা মুনির চৌধুরীর শুধু নাম জানেন; কিন্তু চেহারায় তো চিনবেন না। তাদের একমাত্র আমি চিনবো, সুতরাং আমাকে তো থাকতে হবে। ফলে অপারেশনে শুধু তিনি যাওয়ার অনুমতি পান, তাই তাকে রেখেই আমাদের ফিরে আসতে হয়েছিল। মেজর মঈনের সাথে কথা বলার পর তিনি আমাদের শেষ কথা বলেন- তোমরা চলে যাও, আমাকে এখানে থাকতে হবে। সন্ধ্যাবেলায় সুচন্দা ভাবি ফোন করে আমাকে জানান- তোমার ভাই তো বাড়ি ফিরেনি। এই হলো আমার সঙ্গে ৩০ জানুয়ারির স্মৃতি।

 

প্রিয় বিনোদন/শামীমা সীমা