(প্রিয়.কম) মিয়ানমার সেনাবাহিনী কতৃক ভয়ংকর গণহত্যা-নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক শরনণার্থীর দায়িত্ব জাতিসংঘের পক্ষেও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। কাতার ভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ প্রধান ভিভিয়ান ট্যান।

টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হতাশা প্রকাশ করে ইউএনএইচসিআর'র পক্ষ থেকে ভিভিয়ান ট্যান বলেন, স্রোতের মতো আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুরোপুরি সহায়তা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করা সম্ভব না। এ অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। স্রোতের মতো আসছে শরণার্থীরা।

সংস্থাটির মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান আরও বলেন, শরণার্থীরা আসার পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। তবে সেখানে যে পরিমাণ চাহিদা এবং যে হারে মানুষ আসছে তাতে সহায়তা দিয়ে কুলানো সম্ভব হচ্ছে না।

ইউএনএইচসিআর এর  ভিভিয়ান ট্যান। ছবি: সংগৃহীত

ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ প্রধান ভিভিয়ান ট্যান। ছবি: সংগৃহীত

এ সময় বিবেকবান সবাইকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভয়াবহ এক সময় আমাদের সামনে আসছে। এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে বড় ফান্ডের দরকার। সেই ফান্ড এবং সহায়তা সংগ্রহে কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ইস্যুতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে অং সান সুচি’র গঠিত কফি আনান অ্যাডভাইজরি কমিশন গত ২৪ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন এনে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশ ছাড়াও রাখাইনে মানবিক ত্রাণসহায়তা বিতরণ ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই দিন রাতেই রাখাইন বিদ্রোহী কতৃক কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে দেশটির রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট ভোর থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।

সীমান্তের ওপারে সহিংসতা চলছেই। নিজ ভূমি পেছনে ফেলে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা জনস্রোত। ছবিটি ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

সীমান্তের ওপারে সহিংসতা চলছেই। নিজ ভূমি পেছনে ফেলে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গার জনস্রোত। ছবিটি ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

এর আগেও, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

২৫ আগস্ট থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ‘কিলিং অভিযান’ শুরুর পর মিয়ানমার থেকে এখন পর্যন্ত মোট কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে তা নির্দিষ্ট করে বলেতে পারেনি কেউই। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর প্রধান ভিভিয়ান ট্যান ৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ ঘোষণার পরই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অপ্রতুল ত্রাণ ও সহায়তার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

 প্রিয় সংবাদ/কামরুল