(প্রিয়.কম) নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির। দুস্থ নারীদের কল্যাণে তিনি গড়ে তুলেছেন বেসরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘নিজেরা করি’। নারীর বর্তমান অবস্থান, ক্ষমতায়ণ, সম-অধিকারসহ নানা বিষয়ে প্রিয়.কমের সাথে কথা হয় এই নারীনেত্রীর।

প্রিয়.কম: আপনি তো অনেক বছর ধরে নারীর অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন, বর্তমান সময়ে পথ চলার ক্ষেত্রে নারীর প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো কী বলে আপনার মনে হয়?

খুশী কবির: নারীরা এখন অনেকটাই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে। আগে আমাদের নারীদের যেভাবে ডমিনেট করা হতো, এখন তার হার অনেকটাই কমেছে। তারা পুরুষের পাশাপাশি প্রতিটা সেক্টরেই এখন অনেক বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। তবে যেই প্রতিবন্ধকতা এখনো অতিক্রম করতে পারছে না, সেটা নারীর- নিরপত্তাহীনতা। পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র কিংবা রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রেই হোক- এই জায়গাটায় তারা সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। এখনো একজন নারী দিনের বেলায় একা রাস্তায় চলাচল করতে অস্বস্তি বোধ করে, রাতের বেলাতে তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু যেহেতু নারীদের ওয়ার্কিং স্পেস এখন অনেক বেশি ওপেন হয়েছে এবং তাদের পজিশনও আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে, ফলে কাজের জন্য হলেও রাতের বেলা কর্মজীবী নারীকে রাস্তায় চলাচল করতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো- তারা সেখানে কতটা নিরাপদ? তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব তো রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সকলেরই।

প্রিয়.কম: নারীর এই নিরাপত্তাহীনতার কারণ কি বলে মনে হয় আপনার?

খুশী কবির: নারীর নিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। আমাদের সমাজ নারীদেরকে একটা বিশেষ গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখতে ভালোবাসে। এই গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে, ভাবনা-চিন্তা-চেতনা, সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চলে আসবে এবং এসেছেও। নারী যত উঁচু পদেই থাকুক না কেন- সে যখন রাস্তায় চলাচল করে, তাকে যদি অসম্মান করা হয়, নিরাপত্তা দেওয়া না হয়, তখন ওই পদের কোনো মূল্য সমাজ দিচ্ছে কি?

খুশী কবির

প্রিয়.কম: নারী কি বাইরেই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে বলে মনে করেন?

খুশী কবির: সরকারি পরিসংখ্যান দিয়েই আপনাকে সংখ্যাটা বুঝাই। সরকারি হিসাব বলে- ৮০ শতাংশ নারী নিজ গৃহেই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। কেবল নারী নয়, কোনো মানুষের জন্যই এটা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, মানুষ হিসেবে তার বেঁচে থাকার অধিকারকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

প্রিয়.কম: এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কী? রাষ্ট্রের পক্ষে তো ঘরে ঘরে গিয়ে এই নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়।

খুশী কবির: পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার সবার আগে। নারী-পুরুষের লিঙ্গগত পার্থক্য ছাড়া, অন্য কোনো পার্থক্য আমার চোখে পড়ে না। আর যা পার্থক্য দেখেন, সেটা সমাজের সৃষ্টি। সমাজই চোখে আঙুল দিয়ে নারী আর পুরুষের আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে বিভেদ সৃষ্টি করছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ অনেক উচ্চ পদে এখন নারীরা কাজ করছেন, ফলে নারীর ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

প্রিয়.কম: শুধু কী পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গী বা মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্য থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে হয় আপনার?

খুশী কবির: না, তেমনটা আমি মনে করি না। পুরুষের মানসিকতার সাথে সাথে নারীদেরও দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন প্রয়োজন। আমি অনেকের সাথেই কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বা কর্মজীবী নারীরও পরিবার থেকে বিয়ের ব্যাপারে চাপ থাকে। নারী বিদেশ থেকেও যদি উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আসে কিংবা যতই মুক্তমনা পরিবারে বেড়ে উঠুক না কেন, একটা স্টেজের পরে তাকে বিয়ের জন্য নানাবিধ চাপ প্রয়োগ করা হয়।

প্রিয়.কম: এই চাপটা কী জন্য? দায় এড়ানোর জন্য? নারীকে বিদায় দিতে পারলে কি তারা দায় মুক্ত হয়?

খুশী কবির: দায় মুক্তির ব্যাপারটা আগে ছিল। এখন হয়তো ওইভাবে কেউ না ভাবলেও এই চাপটা মূলত আসে নিরাপত্তাহীনতার কারণে। আমি অনেক পরিবারকে জিজ্ঞেস করেছি- নিরাপত্তার জন্য নিজের দায় অন্যের ঘাড়ে ফেলছে কিনা?

প্রিয়.কম: কন্যার নিরাপত্তার দায় তো বাবা-মা’য়েরও। বিয়ে হয়ে গেলেই যে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, এমন তো না।

খুশী কবির: অবশ্যই। আমি যদি অভিভাবক হই, কন্যার জীবনে যা-ই কিছু ঘটুক না কেন, সেটা তো আমার সাথেও সংযোজিত। বিয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার সমাধান করাটা অযৌক্তিক।

খুশী কবির

প্রিয়.কম: এই যুগে এসেও নারীর স্বাধীনতাকে ভালো চোখে না দেখার কারণগুলো কী?

খুশী কবির: এখন সমাজ যদি মনে করে, একজন নারীর স্বাধীনভাবে চলাচল করা উচিৎ না বা ভালো না, তবে তো আমি বলবো- আমাদের টোটাল সমাজ ব্যবস্থাই নারীকে ভয় পায়, নারীর স্বাধীনতাকে তারা ভয় পায়। নারীর স্বাধীনতাকে ভয় পায় বলেই এইসব প্রতিবন্ধকতা সমাজেরই সৃষ্টি। নারী স্বাধীনভাবে চলাচল করলে কিংবা স্বাধীনতা উপভোগ করলে, পুরুষের সম মর্যাদার হয়ে যাবে, এটাতেই তাদের ভয়। তারা কোনো অবস্থাতেই নারীকে পুরুষের সমকক্ষ হতে দেবে না।

প্রিয়.কম: একজন পুরুষ দিন হোক বা রাত, যে কোনো সময় রাস্তায় একা চলাফেরা করতে পারছে, কিন্তু একজন নারীর ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হচ্ছে না, উল্টা তার চরিত্র নিয়েও তাকে কথা শুনতে হচ্ছে...

খুশী কবির: মূল ভয়টা কী আসলে? নারীকে ধর্ষণ করা হবে? কিংবা অপহরণ করা হবে, তাই তো? এখন একজন পুরুষ যখন রাতের বেলায় বাইরে থাকে; সে যদি ছিনতাই, ডাকাতি বা খুন করতেও বাইরে অবস্থান করে, তাকে কিন্তু প্রমাণ করতে হয় না, সে ভালো কী খারাপ! তার চরিত্র নিয়েও কেউ প্রশ্ন করে না, যতই সে খারাপ কাজ করুক না কেন।  কিন্তু একই ঘটনা যদি একজন নারীর ক্ষেত্রে ঘটে! জরুরি কাজে হোক কিংবা ঘুরতেই বাইরে বের হোক, কেন একজন নারীকে তার চারিত্রিক সনদ দেখাতে হবে? কেন তাকে প্রমাণ করতে হবে- সে ভালো নাকি মন্দ? আপনার নিশ্চয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোমানা মঞ্জুরের ঘটনা মনে আছে? তার স্বামী যখন চোখ উপড়ে ফেললো, মিডিয়ায় সে খবরের চেয়ে বেশি ফলাও করে প্রচার করলো- রোমানার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা। আবার তার পরিবারও কিন্তু এটা ডিফেন্ড করার জন্য সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করলো- সে বেশ ধার্মিক মেয়ে, ভালো মেয়ে। ভালো-মন্দ প্রমাণ করতে হবে কেন? তার সঙ্গে একটা অমার্জনীয় অন্যায় করা হয়েছে। একজন পুরুষ হত্যা হলে বা তাকে কেউ হত্যার চেষ্টা করলে কি প্রমাণ করতে হয়- সে ভালো ছিল না কি মন্দ? নারীকে কেন করতে হবে? অপরাধী যেই হোক, সে তো অপরাধী-ই। ভিক্টিমাইজ যে হয়েছে, সে ভালো নাকি মন্দ এটা তো মূল বিষয় হওয়ার কথা না। এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।

প্রিয়.কম: কিন্তু একজন পুরুষও তো আসলে ছোট থেকে তার পরিবার এবং সমাজে এগুলো দেখেই বড় হয়, ফলে সে কীভাবে আর অন্যদের তুলনায় আলাদা থাকবে?

খুশী কবির: একজন পুরুষ বা নারীর তো প্রধান পরিচয় হওয়া উচিৎ সে একজন মানুষ। এই যে পুরুষের নিজেকে সুপিরিয়র ভাবার মানসিকতা, এটা কিন্তু সমাজ পুরুষকে এক প্রকার চাপিয়ে দিচ্ছে।  কোনো পুরুষ এর বাইরে গিয়ে কিছু করতে চাইলে তার উপর একটা চাপ সৃষ্টি হয়, তাই নিজের আলাদা মতামত গড়ে তোলা তাদের জন্যও কষ্টকর। এটাও কিন্তু নারীকে অবহেলা করার মতো এক ধরণের অন্যায়। নিজের মত গড়ে তোমার মতো মতামত গড়ে তোলার অধিকার নারী-পুরুষ উভয়েরই আছে। পুরুষ মানেই যে পেশী শক্তি প্রদর্শন, সেটা হওয়া উচিৎ না।

প্রিয়.কম: এটা তো শুধু আমাদের দেশের সমস্যা না। পুরুষের এই পেশী শক্তি দেখানোর মনোভাব তো সারা বিশ্ব জুড়েই।

খুশী কবির: সারা বিশ্বেই আছে, কিন্তু আমাদের দেশের মতো এত প্রকট না। সার্বিকভাবে এ সমস্যা এই পুরো উপমহাদেশে বিদ্যমান, এটা ভাঙা খুব জরুরি।

প্রিয়.কম: আমাদের দেশের নারীর ক্ষমতায়নের দিকটাকে কীভাবে দেখছেন?

খুশী কবির: আগেই তো বলেছি- কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরা বেশ এগিয়ে গেছে, অনেকেই নিজের অনেক ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। আপনি ২০-২৫ বছর আগের কথাও যদি ভাবেন, নারীদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হতো। ঘর থেকে বের হতে পারতো না, পড়াশোনাও একটা স্টেজ পরে বন্ধ করে দিতে হতো। আর এখন খোঁজ নিলে জানতে পারবেন- প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা বেশি, লেখাপড়াতেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো ফলাফল করছে। এখন যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে, ভবিষ্যতে আমাদের নারীরা এগুলো অতিক্রম করে আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা করি।

খুশী কবির

প্রিয়.কম: কিন্তু আপনার কি মনে হয় না, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি, তাদের উপর নির্যাতনের হারও সমান তালে বাড়ছে?

খুশী কবির: স্বীকার করি, বেড়েছে। এটা আমাদের অসুস্থ সমাজের প্রতিফলন।

প্রিয়.কম: কর্মক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বাড়ছে বলছেন কিন্তু নারীর কর্ম পরিবেশ কি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়েছে?

খুশী কবির: না, এখনো সেই প্র্যাক্টিস আমাদের গড়ে উঠেনি। সে জন্যই তো বারবার বলছি, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন সবার আগে জরুরি। প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের উচিৎ তার নারী কর্মীদের যৌন নিপীড়ন বা হয়রানি রোধ করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন করা। শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকেও এক-দুই জন সদস্য সেখানে থাকতে পারে, নিরপেক্ষ জাজমেন্টের জন্য। এসব নীতিমালা কিন্তু আছে, কিন্তু কয়জন সেটা মেনে চলে? আবার দেখবেন যৌন হয়রানের শিকার কোনো নারী কর্মী যদি প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগ করতে যায়, অনেক ক্ষেত্রে ভিক্টিমকেও বাজে ভাবে দেখা হয়। ফলে এসব ক্ষেত্রে আমাদের এখনো আরো অনেক কাজ করা বাকি। পুরুষদের সহযোগীতা ছাড়া যেমন এগুলো করা সম্ভব  না, পুরুষদের মানসিকতাও আমাদেরই পরিবর্তন করতে হবে।

প্রিয়.কম: আপনি তো বহু বছর ধরে নারীদের নানা সমস্যার সাথে পরিচিত। কী মনে হয়? শহরে, নাকি গ্রামাঞ্চলে নারীরা বেশি নির্যাতিত হোন?

খুশী কবির: আমাকে এই প্রশ্ন অনেকেই করে, আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই গ্রামের নারীদের সাথে কাজ করা শুরু করেছি, তাদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। গ্রামে তো মানুষের বেড়ার-টিনের ঘর, আর ঘরগুলো কাছাকাছি হওয়ার কারণে, কোনো ঘটনা ঘটলে সবাই জানাজানি হয়ে যায়। আমি যে সময়ের কথা বলছি, সে সময় কোনো গ্রাম্য সালিশে নারীর উপস্থিতির অধিকার ছিল না। বিচার যেটা করা হতো সেটাও এক তরফা। এখন তো এসব পরিবর্তন হয়েছে, সালিশে নারীরা উপস্থিত থাকে, কথা বলে। এ দিক দিয়ে বিবেচনা করলে নারী সচেতনতা বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ নির্যাতন তার উপর হচ্ছে, এটা হয়তো আগে ছিল না। আগের নির্যাতনগুলো অন্য রকম ছিল- একঘরে করে রাখা হতো, জোর করে সব কিছু চাপিয়ে দেওয়া হতো। আর এখন নারীকে জোর করে ধর্ষণ করা হচ্ছে, সেটার আবার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বা ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দির এ সময়ে এসে এগুলো ঘটনা আমাদের সমস্ত অবদানকে পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। শহুরে নারীরা যে নির্যাতিত হচ্ছে না, তা কিন্তু না। কিন্তু সামাজিক ভয়ে, লোক লজ্জার ভয়ে,আর স্ট্যাটাসের কথা ভেবে শহুরে নারীরা খুব কমই এসব নিয়ে কথা বলেন। তাদের উচিৎ এগুলো বিষয়ে প্রতিবাদ করা, নতুবা তাদের সাথে গ্রামের অসহায় ওই নারীদের কি পার্থক্য থাকলো? তাও তো গ্রামের নারীরা প্রতিবাদ করছে, চিৎকার চেঁচামেচি, ঝগড়াঝাটি করছে, স্বামী-শ্বশুর বাড়ির ক্টু কথা, অপমান সহ্য করেও গ্রাম্য সালিশের শরণাপন্ন হচ্ছে, শহুরে নারীরা কিন্তু সেটা খুব একটা করছেন না।

প্রিয়.কম: কন্যা শিশুদের প্রতি পরিবার থেকেই এক ধরনের অবহেলা দেখা যায়। আগে এই সমস্যা আরো প্রকট ছিল। এমনকি অনেক পরিবারে কন্যা শিশু হওয়ার ভয়ে ভ্রূণ হত্যা করা হতো।

খুশী কবির: উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে- ভ্রূণ নষ্ট করা, জন্মানোর পর কন্যা শিশু ফেলে দেওয়া বা কন্যা শিশু হত্যার হার অনেক কম। এটা আমার কথা না, বেশ কয়েকটা দেশের গবেষণায় এটা দেখা গেছে। অনেক গ্রামের পরিবারগুলোর সঙ্গে আমি কথা বলে দেখেছি- বাবা-মা’রা ছেলে সন্তানের তুলনায় মেয়েদের প্রতি বেশি নির্ভরশীল। তারা বলছেন একটা মেয়ে যেভাবে বাবা-মা’য়ের দেখাশোনা করে, ছেলে সেটা করছে না। আর আগের অবস্থা তো পরিবর্তিত হয়েছে, মেয়েরা আয় করছে, নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে, নিজের একটা ভয়েস তৈরি হয়েছে। এখন মেয়েরা বলে- আমার বাবা-মা’কে আমি-ই দেখবো। ফলে এখন বোধহয় মেয়েদের আর আগের মতো করে দেখা হয় না। আর ধরেন, আপনি যেটা বলছেন, অবহেলার কথা, এটা এখনো হয়তো কিছু পরিবার করছে, সেটা তাদের স্বশিক্ষার অভাবে এবং মানসিকতার সমস্যার কারণে হচ্ছে।

প্রিয়.কম: নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও, যৌতুকের দাবি, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, হত্যা- এসব ঘটনা অহরহ ঘটছে। সমাজের সাথে সাথে, রাষ্ট্রও তো এই দায় এড়াতে পারে না...

খুশী কবির: রাষ্ট্র যদি আইন করে থাকে, তবে তার দায়িত্ব হচ্ছে সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। কিন্তু রাষ্ট্র কি তা করছে? নারী নির্যাতন বন্ধে যে সকল আইন বা নীতিমালা হয়েছে, দুঃখজনক হলেও সত্য- এগুলো বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর ভূমিকায় নেওয়া হচ্ছে না।

প্রিয় সাক্ষাৎকার/গোরা