(প্রিয়.কম) নাম রাকেশ আস্তানা। ভারতীয় নাগরিক। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তিন দিনের মাথায় তদন্তের নামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন তিনি। বিশ্বব্যাংকের সাবেক আইটি পরিচালক ও ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিকস সাইবার সিকিউরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয়ে তৎকালীণ গর্ভণরের নির্দেশেই তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার ৪০ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়ের করা মামলা তদন্তে গিয়ে তাকেই রহস্যময় বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দৈনিক বণিক বার্তার অনুসন্ধানে জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির পরই কোনো ধরনের লিখিত আদেশ ছাড়াই সুইফট সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩১টি কম্পিউটার পরীক্ষা করেন রাকেশ। পরে সিআইডি ওই কম্পিউটারগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পায় মুছে ফেলা হয়েছে সব কম্পিউটারের লগ। আর সিআইডির সন্দেহ এর মধ্য দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল রিজার্ভ চুরির আলামত নষ্টের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা কোনো ধরনের লিখিত আদেশ ছাড়াই সে সময় রাকেশকে কম্পিউটার হস্তান্তর করতে চাননি। পরে গভর্নরের টেলিফোনে দেওয়া নির্দেশে তাকে সুযোগ দেয়া হয়।

নিয়মানুযায়ী কোনো ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে স্থানটিতে ক্রাইম সিন হিসেবে সংরক্ষণ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের আলামত সংগ্রহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থানের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হয়নি। মামলা করা হয়েছে ৪০ দিন পর। এই দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত কাজ চালিয়েছেন রাকেশ আস্তানা। আর এখন তাকেই সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা।

তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিআইডির মুখপাত্র মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেছেন, শুধু রাকেশ আস্তানাকেই নয়, রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত সব সন্দেহভাজনকে সামনে রেখেই তদন্তকাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বণিক বার্তার দাবি, রাকেশ আস্তানার সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও সাক্ষাৎ পাননি সিআইডি কর্মকর্তারা। পরে ভিডিও কনফারেন্সে তার সঙ্গে কথা বলেন। অথচ রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ সম্মেলনে সামনে এসেছিলেন রাকেশ আস্তানা। কয়েকটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন ব্যাংকের বাইরে থেকেই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এ সম্পর্কে আর বেশি তথ্য তিনি কখনোই প্রকাশ করেননি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় উদ্ধার হওয়া কয়েক কোটি টাকা ফিরিয়ে এনেছে সরকার। ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি অর্থমন্ত্রী

প্রিয় সংবাদ/শান্ত