(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক এক ঘোষণার অংশ হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত। ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের নেতারাই বলে থাকেন দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন অতীতের যেকোনো সময়ের মধ্যে সেরা সময় পার করছে। কিন্তু তা সত্বেও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে এমন অস্বীকৃতি আসলো ‘বন্ধুপ্রতীম’ ভারতের পক্ষ থেকে। 

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ‘ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্টারি ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ সম্মেলনে সবগুলো দেশের সমন্বয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু  ‘রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এখানে যথার্থ নয়’ দাবি করে বিবৃতি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে ভারত। ওই সম্মেলনে ভারতের লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের নের্তৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ঘোষণাপত্রের একটি অংশে মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতা বিষয়ে গভীর উদ্বেগের কথা আছে। এই অংশের ব্যাপারে ভারত আপত্তি জানায়।

ভারতের লোকসভা সচিবালয় থেকে ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনের শেষদিকে এসে যে যৌথ ঘোষণা অনুমোদন করা হয়েছে, তা ‘টেকসই উন্নয়নের’ বৈশ্বিক মূলনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। 

লোকসভার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টারি ফোরামের এই সম্মেলন হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে পারস্পরিক ঐক্যমত। কিন্তু শেষর দিকে এসে ঘোষণাপত্রে  রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘোষণা ঐক্যমতের ভিত্তিতে নেয়া হয়নি এবং এটা যথার্থ নয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমানাভিযান শুরুর পর সেখান থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। জাতিসংঘ বলছে, এরই মধ্যে দেড়লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, চলতি দফায় অন্তত তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

অতিরিক্ত রোহিঙ্গার চাপে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা এখন বড় মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। 

এ ইস্যুতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জনমত গঠন করে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে চাইছে, যাতে তারা তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়। অতি সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফর করেছেন। সেখানে দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় রোহিঙ্গা বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিজেদের পক্ষে আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যৌথ ঘেষণার তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এখন পার্লামেন্টারি ফোরামের যৌথ ঘেষণায়ও ভারত নিজেদের সরিয়ে নিল। মিয়ানমারের সাথে একাত্মতার ক্ষেত্রে এটি ভারতের আরেকটি ধাপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগষ্ট রাখাইনের পুলিশ চৌকিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) জঙ্গিদের হামলার পর রাজ্যটিতে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু হয়।  এরপর সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয় লাখ লাখ মানুষ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনা নির্যাতনের বিভীষিকাময় বর্ণনা দিচ্ছেন। তাদের দাবি অনুসারে সেনারা বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে, পুরুষদের বৗ্যাপক নির্যাতনের পর হত্যা করা হচ্ছে, শিশুদের জবাই করা থেকে শুরু করে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। যদিও দেশটির নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচি সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। একটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাখাইনে প্রত্যেককে রক্ষায় সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রিয় সংবাদ/মিজান