(প্রিয়.কম) পবিত্র নগরী সৌদি আরব। একটি মুসলিম দেশ। ইসলামের প্রথম ও প্রধানতম উৎপত্তিস্থল হিসেবে এই নগরীর গুরুত্ব অন্যান্য মুসলিম দেশ অপেক্ষা একটু বেশি। মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান কাবা ও রাসূলের (সা.) রওজা মোবারক সৌদিতে অবস্থিত বিধান এই নগরী বা দেশটি মুসলিম বিশ্বের কাছে আরো একটু বেশি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারস্থল। ইসলাম ও মুসলিমের অস্তিত্বের সাথে জড়িত নানা নিদর্শনের দেশ সৌদি আরব। সেখানে রয়েছে পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র সব নিদর্শন।

ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) সহ বহু নবী-রাসূলের পবিত্র সব স্মৃতি ধন্য নানা নিদর্শন রয়েছে এ নগরীর বিভিন্ন স্থানে। তেমননি একটি পবিত্র নিদর্শন আল খায়েফ মসজিদ। এই মসজিদটি মিনার দক্ষিণে ছোট জমরাতের কাছাকাছি একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। ইসলামের ইতিহাসে এটি এমন একটি মসজিদ সেখানে মহানবী (সা.) সহ আরো অনেক নবী-রাসূলগণ নামাজ আদায় করেছেন।

মসজিদ আল খাইফের গুণাবলী কিছু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। হজরত ইবনে আব্বাসের (রা.) একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মসজিদু আল খাইফে সত্তর নবী-রাসূল নামাজ (প্রার্থনা) আদায় করেছেন’। [মজমাউজ জাওয়াহিদ] কারো কারো মতামত হলো, এই মসজিদে ৭০ জন নয় বরং ৭০০ জন বা তারও অধিক সংখ্যক নবী-রাসূল নামাজ (প্রার্থনা) আদায় করেছেন। তবে এই সংখ্যা ও মতামতের পক্ষে গ্রহণযোগ্য শক্তিশালী কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি।

নবী-রাসূলদের প্রার্থনা বা নামাজ আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ছাড়াও এই মসজিদটি ইসলামের ইতিহাসের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ধারণ করে আছে। আর তা হালো- পঞ্চম হিজরিতে ইহুদিদের ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারনা মক্কার কাফেরা মদিনায় হামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই হামলা উপলক্ষে মক্কার কাফেররা বড় বড় ও শক্তিশালী কিছু আরব গোত্রের সাথে চুক্তি সম্পাদিত করে। পরবর্তীতে ইসলামের বিজয়ের পর এই চুক্তি সম্পাদিত স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ইসলামের ইতিহাসের সেই স্মৃতি ধারণকারী মসজিদটিই হলো আল খায়েফ মসজিদ।

সূত্র : ইসলামিকল্যাণ্ডমার্কস.কম ও দ্য হিস্টোরি অব মক্কা মোকাররমা

প্রিয় ইসলাম/শামীমা সীমা।