(প্রিয়.কম) সেনা নির্যাদনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর জন্য এখন আশ্রয়, খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে হিমসিম খাচ্ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। প্রতিদিনই আরও হাজার হাজার লোক আসছে - যাদের মধ্যে এক বড় অংশ নারী ও শিশু।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর নিষিদ্ধ এ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন পেতে রেখেছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার এবং বান্দরবনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশ এবং বাংলাদেশে ঢোকার পরের ঘটনা কাভার করতে ঘটনাস্থলে রয়েছেন বাংলাদেশের বহু সাংবাদিক। ফটো সাংবাদিক সৈয়দ জাকির হোসেন তাদেরই একজন।

ফটোসাংবাদিক সৈয়দ জাকির। ছবি: সংগৃহীত

ফটোসাংবাদিক সৈয়দ জাকির। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলছেন, ‘সত্যিকার অর্থে এটা একটা প্রচণ্ড মানবিক বিপর্যয় যাকে বলে আর কি। তাদের যে অসহায়ত্ব সেটা এতো স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় যে কষ্ট লাগে।’

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি একটু আলাদা। কারণ তারা খুবই গরিব কিন্তু তারা কিছু বুঝিয়ে বলতে পারে না। জাকির বলেন, হাজার হাজার মানুষ এভাবে আসতে আর দেখিনি। প্রায় ৩০টির মতো পয়েন্ট যার অনেকগুলোই আমি ঘুরেছি।

শরণার্থী হিসেবে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই তারা বাকরুদ্ধ। তারা ওভাবে বলতেও পারে না। বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে এসেছে মা, সেই মা কীভাবে তার মনোভাব প্রকাশ করবে? আবার এক মহিলার বয়স আশির ওপরে। চলতে পারেন না। তারা ছেলেরা দুভাই মিলে বাঁশ দিয়ে কাপড় বেঁধে মাকে বহন করে নিয়ে এসেছে দীর্ঘ পথ। গলা পর্যন্ত পানি ডিঙ্গিয়ে নারী, শিশু এমনকি গর্ভবতী নারীরা নদী পার হয়ে আসছে। কোনো নৌকা পর্যন্ত নেই সেখানে।

শিশুরাও শত মাইল পথ পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে আসছে বাংলাদেশে। ছবিটি ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার টেকনাফের লম্বাবিল এলাকা থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

শিশুরাও শত মাইল পথ পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে আসছে বাংলাদেশে। ছবিটি ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার টেকনাফের লম্বাবিল এলাকা থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

রোহিঙ্গাদের কষ্ট আর অসহায়ত্ব ফটো সাংবাদিকরা ঠিক কতটা তুলে আনতে পারছে এসব? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আসলেই কঠিন। যে কষ্ট, আবেগ সেটি বোঝানো কঠিন। প্রতিটি মানুষের চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে তারা কতটা ভীত সন্ত্রস্ত। বাচ্চাগুলোর চোখের দিকে তাকালেই মনে হয় যে আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। আমরা সিডর আইলার মতো দুর্যোগে মানবিক বিপর্যয় দেখেছি কিন্তু রোহিঙ্গাদের মতো এমন পরিস্থিতি দেখিনি’।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/শান্ত