(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে একসেঞ্চার কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ নিয়ে যে ধুম্রজাল ছিল তা এবার স্পষ্ট হলো। গ্রামীণফোন একসেঞ্চারকে রেখে তাদের সকল আইটি সাপোর্টের জন্য ভারতের উইপ্রোর সাথে চুক্তি করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছিল তা কোনো পক্ষই স্বীকার করেনি। তবে এবার উইপ্রো নিজেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। 

গণমাধ্যমের কাছে গত বুধবার পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উইপ্রো লিখেছে, ‘উইপ্রো হোমস’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত সফটওয়্যার প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণফোনের সব আইটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। চুক্তি অনুসারে গ্রামীণফোনের অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, আইটি অবকাঠামোগত সহায়তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যাক অফিস পরিচালনার কাজ করবে উইপ্রো। 

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, গ্রামীণফোনের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন ব্যবসার সুযোগও খুঁজবে উইপ্রো। এ জন্য বাংলাদেশে একটি সেবা কেন্দ্র বা ডেলিভারি সেন্টার খুলবে আইটি প্রতিষ্ঠানটি। তবে কবে এই অফিস চালু করা হবে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। 

এর আগে অবশ্য গ্রামীণফোনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল প্রিয়.কমের কাছে লিখিত এক উত্তরে জানিয়েছিলেন, উইপ্রো স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তারা ইতোমধ্যেই ভারত ও মায়নমারে টেলিনর গ্রুপকে সেবা দিয়ে আসছে। গ্রামীণফোনকেও আইটি সেবা দেয়ার জন্য তাদের সাথে চুক্তি করা হয়েছে।

একসেঞ্চার বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য একসেঞ্চার কমিউনিকেশনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার সলিউশনস লিমিটেড (এসিআইএসএল) এর সাথে যোগাযোগ করুন। আর একসেঞ্চার বন্ধের পর এখন জিপিআইটির কি হবে? সেই উত্তরে তালাত কামাল বলেন, এসিআইএসএল যেসব সেবা দিত সেগুলো গ্রামীণফোনের মূল ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কিত নয়; তাই সেসব কার্যক্রমে গ্রামীণফোন ফিরে যাবে না।

টেলিনর তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াতেই বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে একসেঞ্চার। বিষয়টি কি সত্যিই তাই? উত্তরে তালাত কামাল বলেন, এশিয়া ও ইউরোপে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পুনর্বিন্যাস করতে একসেঞ্চার, টেলিনর গ্রুপ এবং গ্রামীণফোন এক সাথে কাজ করছে। এর ফলে একসেঞ্চার কমিউনিকেশনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার সলিউশনস লিমিটেড (এসিআইএসএল) যেসব সেবা প্রদান করত সেগুলো নিজেদের এবং প্রখ্যাত বৈশ্বিক আইটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উইপ্রোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, জিপিআইটির ৫১ শতাংশ মালিকানা নিয়ে ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে একসেঞ্চার। শুরুর দিকে টেলিনর গ্লোবালের চার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, ডিজি মালায়শিয়া, ডিট্যাক থাইল্যান্ড, এবং টেলিনর পাকিস্তানের দায়িত্ব পায় একসেঞ্চার। এশিয়ার এই চারটি দেশের সাথে সফল ব্যবসা করার পর টেলিনরের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল একসেঞ্চারের। কিন্তু এর উল্টোটা হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়তে হচ্ছে একসেঞ্চারকে।

প্রিয় টেক/আশরাফ