(প্রিয়.কম) মানবতার বিচারে বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু। কেননা; এখানে প্রতিদিনই ঘর পুড়ছে হাজারো মানুষের। জীবন বাঁচাতে আপন ভিটা ছেড়ে নাফের বুকে ভাসছে মানুষ। তাদের কেউ প্রাণ নিয়ে ভিড়ছেন তীরে, অনেকে লাশ হয়ে।

মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম নির্যাতন আর বিভৎস ঘটনার জন্ম দিচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই চলছে প্রতিবাদ।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন নিশ্চুপ থাকালেও উল্টো সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ায় দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সুচি তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন। মানবাধিকারের কথা বলে ক্ষমতায় আসা সুচি কেন এখন মানবতাবিরোধী এমন একটি সরকারি কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তার বিরুদ্ধে দেশে দেশে বিক্ষোভ মিছিল, র‌্যালি হলেও সমালোচনা থেমে নেই তার ফেইসবুক পেইজে’ও। শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নেত্রীকে নিজের ফেসবুক পেজেই বিভিন্ন পোস্টে কটাক্ষ আর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবি করেছেন। তবে এসব কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছেন না তিনি। সম্প্রতি জাতিসংঘের অধিবেশনেও যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সু চি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ঘটনাকে অ্যাডলফ হিটলারের শাসন আমলের সঙ্গে তুলনা করছেন। ওই সময় হিটলারের রাজ্য জয় ও বর্ণবাদী আগ্রাসনের কারণে লাখ লাখ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়। ৬০ লাখ ইহুদিকে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করা হয়। ইহুদি নিধনের ওই ঘটনা এখনো ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে। 

১৭ সেপ্টেম্বর সুচি’র ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজে গিয়ে দেখা যায়, তার কভার ফটোতে নানা সমালোচনা, প্রতিবাদ আর কটাক্ষে ভরপুর।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সুচি’র পেজের শুধু কাভার ফটোতেই মন্তব্য পড়েছে সাড়ে ১৭ হাজারের মতো, যার সিংহভাগই করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়ে। এছাড়া ছবিটি শেয়ার করেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। 

সুচির শপথ নেওয়ার ছবি

শপথ নিচ্ছেন অং সান সুচি। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া  

২০১৬ সালে ১৩ এপ্রিল পোস্ট করা কাভার ফটোতে দেখা যাচ্ছে সুচি শপথ নিচ্ছেন। ছবিটিতে মন্তব্যকারী সবাই যে রোহিঙ্গা ঢলে আক্রান্ত বা উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি তা নয়। সবাই মুসলিমও নন। কিন্তু নির্যাতন বন্ধের ইস্যুতে তারা প্রায় সবাই একমত। 

ইউসুফ নামের একজন তাকে অ্যাডলফ হিটলারের মহিলা সংস্করণ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমি আপনাকে আমি আপনাকে অ্যাডল্ফ হিটলারের নারী সংস্করণ হিসেবে প্রবর্তন করছি।’

নাহিদ এনাম মন্তব্য করেন, ‘সুচির থেকে কুকুর ভালো, তাকে মানুষের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক।’

এছাড়াও অনেকের বক্তব্য ছিল, তারা আগে অং সান সুচি’কে খুব পছন্দ করতেন। এমনকি মানবাধিকারের জন্য লড়াই করা গৃহবন্দী সুচি’কে ভালোও বাসতেন তারা। মানবতার পক্ষে লড়াইয়ের প্রতীক মনে করতেন। কিন্তু এখন সু চি তাদের কাছে ঘৃণিত একটি নাম।

এভাবে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা, বোঝানো, ধমকানো, তর্কবিতর্ক ছাড়াও রোহিঙ্গাদের বিপদমুক্তি এবং সুচি ও তার সরকারের শুভবুদ্ধির উদয়ের প্রার্থনা জানিয়েও কমেন্ট করেছেন বহু ফেসবুক ব্যবহারকারী।    

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে বেশ কিছু পুলিশ পোস্টে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী নজিরবিহীন নৃশংস অভিযান পরিচালনা করে। খুন, কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা, ধর্ষণসহ নানাভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন অব্যাহত রাখে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী।

যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় চার লাখ রোাহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। নিহত হয়েছে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। জনশূন্য হয়ে গেছে প্রায় ১৭৬ টি গ্রাম।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের অনুরোধে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানায়।

এর আগে এ সংকট নিরসনে ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ ১২ জন নোবেল বিজয়ী ও বিশ্বের ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকএকটি খোলা চিঠি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

প্রিয় সংবাদ/সজিব