(প্রিয়.কম) দাবী আদায়ের লক্ষ্যে চলমান অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে সুইডিশ টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসন বাংলাদেশ থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মীরা। ৩১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রম পরিচালক আবু হেনা মুস্তাফা কামালের হস্তক্ষেপে এই অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এরিকসন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন অব বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।  

শুরু করার ৭২ ঘন্টা পর নিজেদের এই অনশন প্রত্যাহার করল এরিকসন কর্মীরা। অনশন চলাকালে দুজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাদেরকে স্যালাইন দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের একজনের অবস্থা গুরুতর হলে ২৯ আগস্ট মধ্যরাতে গুলশানে শাহাবুদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ দুপুর পৌনে চারটার দিকে আসাদুজ্জামান প্রিয়.কমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার শ্রম অধিদপ্তরে শ্রম পরিচালক আবু হেনা মুস্তাফা কামালের কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যপী এই বৈঠকের জানানো হয় যে, শ্রম আইন অনুযায়ী আমাদেরকে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। আর এইবিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে আগামী ১১ অথবা ১২ সেপ্টেম্বর।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে শ্রম পরিচালক ছাড়াও এরিকসন বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাক্টিং হেড অব কান্ট্রি ইউনিট আবদুস সালাম, এইচআর ডিরেক্টর মীর আউয়াল খাদিমুর ও এইচআর ম্যানেজার মো. খায়রুল বাশার এবং এরিকসন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, হাসান মোরশেদুল ও তারেক মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো শ্রম পরিচালক মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, তবে খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হবে। আর এই আশ্বাসেই আজ দুপুর থেকে আমরা আমাদের চলমান অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট বিনা নোটিশে এবং কোনোরকম বাড়তি সুবিধা ছাড়াই ই-মেইলের মাধ্যমে প্রায় ৬২ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে এরিকসন বাংলাদেশ। যার মধ্যে ৫০ জনই আবেদনকৃত এরিকসন এমপ্লজীজ ইউনিয়নের সদস্য। এরপর কর্মীরা দাবি জানান, চাকরিচ্যুত করতে হলে টেলিকম অপারেটরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো তাদেরকেও স্বেচ্ছায় অবসর বা ভিআরএস সুবিধা দিতে হবে। এরপর এরিকসন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে গত গত ২৮ আগষ্ট সকাল থেকে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। 

প্রিয় টেক/মিজান