(প্রিয়.কম) নিজেদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ধর্মঘট করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইডিশ টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসন বাংলাদেশ থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মীরা। আজ ২৮ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই অনশন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন এরিকসন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি প্রিয়.কম-কে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা টেলিকম অপারেটরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো স্বেচ্ছা অবসর স্কিম বা ভিআরএস সুবিধা দাবি করেছিলাম। এটা নিয়ে তারা আমাদেরকে আজ সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেছিলেন। কিন্তু আজ তারা কেউ অফিসে আসেননি। আর এই বিষয় নিয়ে যতক্ষণ না এরিকসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের সাথে বসছে, ততক্ষণ এই অনশন ধর্মঘট চলবে। 

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এরিকসনের গুলশান কার্যালয়ের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার তালিকায় থাকা সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রিয়.কম-কে বলেন, আমাদের প্রায় ৫০ জন কর্মী এখন এই অনশন ধর্মঘটে অবস্থান করছে এবং প্রত্যেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনশন চালিয়ে যাব। 

আজ প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত ছিল না বলে জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, সকাল থেকে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তারা কেউ কোনো কথা শুনছেন না। এদিকে বাকি কর্মীদেরকেও কাল থেকে বাড়ি বসে সাপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে তারা।

ইউনিয়নের এই নেতা অভিযোগ করেন, এরিকসন কোনো ধরনের শ্রম আইন না মেনে আমাদেরকে চাকরিচ্যুত করেছে। যেহেতু সামনে ঈদের বন্ধ, আর আগেই ইমেইলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে আমাদের চাকরির মেয়াদ আছে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। তার মানে ঈদের পর থেকে আমরা আর অফিসে আসতেও পারব না। তাদের সাথে কোনো ধরনের কথাও বলতে পারব না। এই সুযোগটাই তারা কাজে লাগিয়েছেন।

এর আগে গত ২১ সোমবার এরিকসন বাংলাদেশের হেড অব কান্ট্রি ইউনিট অ্যাস্টন টড, অ্যাক্টিং হেড অব কান্ট্রি ইউনিট আবদুস সালাম ও এইচআর ম্যানেজার মো. খায়রুল বাশারসহ ৪জন কর্মকর্তাকে প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন কর্মীরা। পরবর্তীতে মঙ্গলবার এরিকসনের রিজিওনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট, এইচআর- ক্রিস্টেন গ্রে'র সাথে টেলিকনফারেন্সে কথা হয়।

ইউনিয়নের নেতারা জানান, ওই বৈঠকে এরিকসনের কর্মকর্তাদের ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে শ্রম আইন ভঙ্গ হয়েছে। কর্মীদের চাকরিচ্যুত করতে শ্রম আইন তারা মানেনি। আর অন্যান্য টেলিকম কোম্পানিগুলো ছাঁটাইয়ের সময় যেমন স্বেচ্ছা অবসর স্কিম (ভিআরএস) প্রদান করে থাকে, আমাদেরকেও সেই স্কিম দেয়া হোক বলে দাবি করেন তারা। 

সে সময় চাকরিচ্যুত কর্মীদের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো লিখিত পাঠাতে বলা হয়। একইসঙ্গে আজ ২৮ আগষ্ট এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট বিনা নোটিশে এবং কোনোরকম বাড়তি সুবিধা ছাড়াই ইমেইলের মাধ্যমে প্রায় ৬০ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে এরিকসন। যার মধ্যে ৫০ জনই আবেদনকৃত এরিকসন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন অব বাংলাদেশের সদস্য।

প্রিয় টেক/শান্ত