(প্রিয়.কম) নানা নাটক আর বিতর্কের অবসান ঘটাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে। এ নিয়োগকেই ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ তুলে বিবৃতি প্রদান করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ৩১ জন সিনেট সদস্য। 

৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা আইন লঙ্ঘনের এ অভিযোগ তুলেন।

উপাচার্য নিয়োগ বিষয়ে ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে উপাচার্য করতে পারেন, নাও করতে পারেন। বাইরে থেকেও তিনি নিয়োগ দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি আইনি ক্ষমতাবলে নিয়োগ দিয়েছেন, নিয়োগে শর্ত যা লেখা থাকে তাই লেখা হয়েছে। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।’

এ বক্তব্যের পরই আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ হয়েছে অভিযোগ সম্বলিত সিনেট সদস্যদের বিবৃতিটি আসলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৪ সেপ্টেম্বর সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, ‘উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়েছেন।’

এর আগে উপাচার্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি সমর্থকদের বর্জন, সরকার সমর্থকদের একাংশের আপত্তি এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেটের সভায় ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়। সে সময় আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নীল দলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজকে নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল ‍সিনেটের অনুমোদন পায়। ওই তিনজনের মধ্য থেকেই একজনকে পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।

রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করেই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য সিনেটের বিশেষ সভা ডাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্ট যে রুল দিয়েছিল, তা চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলে আপিল বিভাগ।

সেই আদেশে বলা হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকই উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন। এ বিষয়ে আগামী ৩ অক্টোবর হাইকোর্টে শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। তার আগেই ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ১১ (২) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্যানেলের বাইরে থেকে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দিলেন।

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উপাচার্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেট কর্তৃক তিন সদস্যের প্যানেল বিষয়ে একটি রিট আবেদন আদালতে বিচারাধীন এবং এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্বপদে বহাল থাকবেন বলে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে। এমতাবস্থায় অন্য একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া সরকার, উচ্চ আদালত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিব্রতকর।’

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাত এবং সিনেটকে অকার্যকর করার নানামুখী ষড়যন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

প্রিয় সংবাদ/শান্ত