(প্রিয়.কম) রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা যখন কোনো দেশ সফর করেন তখন সেই দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের জন্য উপহার নিয়ে যান, এটা অতিথি বা রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্মানিত করার প্রচলিত রীতি। ১৯৪৫ সালে সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। সৌদি বাদশার জন্য তিনি উপহার হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলেন একটি সুগন্ধি (পারফিউম) যার মূল্য তৎকালীন একশ পাউণ্ড।

বিপরীতে সৌদি বাদশাহ চার্চিলকে যে উপহার দিয়েছিলেন তা পেয়ে চার্চিলের চক্ষু চড়কগাছ! হবেই বা না কেন? সৌদি বাদশার উপহারের তালিকায় ছিল সোনার তলোয়ার থেকে শুরু করে ডায়মণ্ড রিং পর্যন্ত! এসব উপহার পেয়ে চার্চিল এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তিনি দেশে ফিরেই সৌদির বাদশার জন্য একটি রোলস রয়েস ব্র্যান্ডের গাড়ি সৌদি বাদশার জন্য পাঠতে নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও সেই গাড়ি সৌদি বাদশার কাছে পৌঁছে যায় মাত্র সাত মাসে!

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর প্রথম বিদেশ সফরে যান সৌদি আরবে। সৌদি বাদশাহ সালমানও ট্রাম্পকে যে উপহার দিয়েছেন তার তালিকা বেশ লম্বা। সালমানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে দেওয়া একগাধা উপহারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তলোয়ার, ছুরি, চামড়ার তৈরি বুলেট রাখার বেল্ট, কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার হোলস্টার, সোনার কারুকার্যময় পোশাক, মাথায় ব্যবহারের অনেকগুলো স্কার্ফসহ আরব ঐতিহ্যবাহী গার্মেন্ট, চামড়ার জুতো, পারফিউম ও শিল্পকর্ম ইত্যাদি।

তবে উপহারগুলো খুব বেশি বিলাসী নয় বলে মন্তব্য করে আরাবিয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলী শিহাবী বলছেন, আগে মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা চোখ ধাঁধানো দ্রব্যাদি যেমন দামি ঘড়ি, স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে দিত। এখন আসলে স্থানীয় সংস্কৃতি কিংবা হাতে তৈরি ঐতিহ্যমণ্ডিত শিল্পকর্ম দেওয়া হয়। তবে বাদশাহ শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই নয়, তার সকল সফরসঙ্গীকে একই রকম উপহার দিয়েছেন।

ট্রাম্পের কিছুটা দুর্ভাগ্য, তিনি এই উপহার সবটা তার নিজের কাছে রাখতে পারবেন না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী বিদেশি সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ৩৯০ ডলারের বেশি দামি উপহার নিজের কাছে রাখতে পারবেন না কেউই। তবে তিনি চাইলে উপহারটি কিনে রাখতে পারবেন। যেমন ২০১২ সালে মিয়ানমার সফরে গিয়ে একটি মুক্তোর নেকলেস পেয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। পরে তিনি ৯৭০ ডলার সরকারি কোষাগারে জমা করে নেকলেসটি কিনে নেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত