(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করে সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশকে সব ধরনের সমর্থন ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনে’র (সিপিএ) সদস্য দেশগুলো।

৫ নভেম্বর রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সিপিএ সম্মেলনের উদ্ধোধনী দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বক্তৃতার পর একে একে সমর্থন জানাতে থাকেন সিপিএ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

রোহিঙ্গারা যেন রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিপিএ দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই অসহায়ত্বের কারণে তারা যেকোনো চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে গেলে, তা এই অঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট করবে। এমনকি তা এই অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনায় মালটা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, উগান্ডাসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সিপিএ বক্তরা বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রত্যেকেই এ ঘটনাকে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, মিয়ানমার জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর যে ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে, সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।

সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়ে ভারত ও চীনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। চীন রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছে, তবে তাদের ভাষা ভিন্ন।

সিপিএ সম্মেলনের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিপিসির মিডিয়া তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য আওয়ামী লীগ সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি জানান, সিপিএ সম্মেলনে আগত প্রতিনিধিরা যেন নিজ নিজ দেশের সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, সে অনুরোধ জানিয়েছেন সিপিএ চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি জানান, বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে রেজুলেশন চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া আছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সমর্থন জানানোর জন্য সিপিএ সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এ ছাড়া চলমান সিপিএ সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণের দাবি তোলা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। কাজী নাবিল বলেন, দাবির বিষয়ে সিপিএ চেয়ারপার্সন ফোরামটির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে রোববার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সিপিএ সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

প্রসঙ্গত, ঢাকার আয়োজনে এ বছর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের ৬৩তম সম্মেলনে (সিপিসি) ১৪৪টি দেশের জাতীয় এবং ৪৪টি দেশের আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ৫৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত