(প্রিয়.কম) বগুড়ার সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের উচ্চমাধ্যমিকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রাকনির্বাচনী পরীক্ষায় অসদাচরণের অভিযোগে দুই ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বহিষ্কারের জেরে কলেজের অধ্যক্ষ এজাজুল হকের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুরের পর তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।  

১১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। কলেজের অধ্যক্ষের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাহার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই শাজাহানপুর থানায় বিশ্বজিৎ কুমার সাহাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন অধ্যক্ষ এজাজুল হক।

হামলা-ভাঙচুর ও সরকারি সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। মামলার পর এস এম জোবায়ের নামে কলেজের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী এবং অনিক নামে স্নাতকের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অধ্যক্ষ এজাজুল হক জানান, ২৬ আগস্ট ছাত্রলীগের নামধারী কয়েকজন ফি পরিশোধ না করে পরীক্ষায় অংশ নিলে শিক্ষক নিলুফার রহমান পরীক্ষার ফি চাওয়ায় মেজবাহুল হোসেন ও জোবায়ের হোসেন নামে দুই শিক্ষার্থী তার সঙ্গে অসদাচরণ করে। এরপর ওই দুই শিক্ষার্থী সোমবার প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার হলে আবারও অসদাচরণ করলে তাৎক্ষণিক তাদের বহিষ্কার করা হয়।

এজাজুল হক জানান, ওই দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের জেরে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিতের নেতৃত্বে দুপুরে তার কক্ষে হামলা চালানো হয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।   

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা বিশ্বজিৎ বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলেও হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে তার নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ছাত্রলীগের কেউ ভাঙচুর করেননি। 

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত নয়টার দিকে মামলা করেন অধ্যক্ষ এজাজুল হক। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে।  

এদিকে ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহমেদ জানান, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন