(প্রিয়.কম) লন্ডনে আসা প্রতিটি পর্যটকের জন্য বাকিংহাম প্যালেস দর্শন আবশ্যক তালিকায় রাখা উচিৎ। কারণ বিখ্যাত এই ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে কাছে থেকে দেখার এটাই একমাত্র সুযোগ। আমরা অনেকেই জানিনা যে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় বাকিংহাম প্যালেস সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আপনি খুব সহজেই টিকিট কিনে লোহার সেই বিশাল দরজা পার করে প্রাসাদের অভ্যন্তরে ঘুরতে পারবেন এবং এমন অনেক কিছুই আপনার চোখে পড়বে যা খুব কম মানুষেরই দেখার সৌভাগ্য হয়।


প্রাসাদের বহিরাগত অংশ।

বাকিংহাম প্যালেসের অসামান্য ভূমিকার জন্য আলাদা পরিচিতির দরকার নেই। গ্র্যান্ড লন্ডনের এই বাসভবন ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রধান কার্যস্থল হিসেবে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। মূলত ১৭০৩ সালে এটি একটি বড় টাউনহাউস হিসেবে নির্মিত হয়। তারপর কিং জর্জ তৃতীয় ১৭৬১ সালে এটি কিনে বড় পরিসরে পুনঃনির্মাণ করেন। ১৮৩৭ সালে রাণী ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসার পর ভবনটি রাজপ্রাসাদ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 

প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময় প্রাসাদের রাষ্ট্রীয় কক্ষগুলো জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। রাজধানী বা লন্ডনে আসা অনেক পর্যটকের জন্য বছরের এই সময় সবচেয়ে উপযুক্ত। জুলাই মাসের শেষের দিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাণী তাঁর বার্ষিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে স্কটল্যান্ডে যান আর সেসময় প্রত্যেকেরই রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাড়ীতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রহস্যময় প্রাসাদে প্রবেশের এমন রাজকীয় অভ্যর্থনা কে বা হারাতে চাইবে!


বাকিংহাম প্যালেসের গ্রীষ্মকালীন প্রদর্শনী। 

কী দেখতে পাবেন প্রাসাদেঃ
প্রাসাদে ৭৮ টি বাথরুমসহ ৭৭৫ টি কক্ষ ও ১৯ টি রাষ্ট্রীয় কক্ষ রয়েছে, যা নিয়মিত তাদের অতিথিদের আতিথেয়তার জন্য রাজপরিবার কর্তৃক ব্যবহৃত হয়। চমৎকার এই কক্ষগুলো দেখার পাশাপাশি প্রাসাদের রাষ্ট্রীয় কক্ষ ভ্রমণে একটি বিশেষ সীমিত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে যা কেবলমাত্র বছরের শুরুতেই দেখা যাবে। এ বছর এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দর্শকরা সরাসরি মূল প্রবেশপথ দিয়ে রাষ্ট্রীয় কক্ষ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। মূল প্রবেশদ্বার সাধারণত রাণী এবং রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমন্ত্রণে আসা অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। দর্শনার্থীরা প্রথমবারের মতো এই সুযোগ পাচ্ছে যাতে তারা ব্রিটিশ রাজপরিবারকে খুব কাছে থেকে দেখতে পারে। আপনি যদি বাগান বিলাসী হয়ে থাকেন তবে প্রাসাদের চমৎকার বাগান ঘুরে আসতে পারেন। প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ মাঠে দু'টি জাদুঘর রয়েছে যা প্রায় পুরো বছর জুড়েই খোলা থাকে। এছাড়া কুইন্স গ্যালারীতে রাজকীয় সংগ্রহশালার সব শিল্পকর্ম দেখতে পাবেন। বাকিংহাম প্যালেসের সামনে গার্ড প্যারেডের দৃশ্য এখানকার দর্শকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। ইংরেজ ঐতিহ্যকে সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা ক'জনেরই হয়! এ বছরের গ্রীষ্মে রাণীর ৬৫ বছরের রাজত্বে পাওয়া সরকারী উপহারসমগ্র দিয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে। 

কীভাবে টিকিট কিনবেনঃ
প্রাসাদ দর্শনের জন্য আপনাকে অগ্রিম টিকিট বুক করতে হবে। শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক টিকিট ছাড়ার কারণে তা খুব দ্রুতই বিক্রি হয়ে যায়। এর প্রবেশ ফি প্রায় ২০ পাউন্ড। বুকিং এর সময় অবশ্যই সেখানে একটি নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ উল্লেখ করবেন। কক্ষগুলো প্রতিদিন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকে। সাধারণত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় আপনি পুরো প্রাসাদ ঘুরে দেখতে পারবেন। প্রাসাদ পরিদর্শনে দর্শকদের আরামদায়ক জুতো পরার পরামর্শ দেয়া হয় কারণ বাগানের বাম দিকের প্রবেশপথ দিয়ে আপনাকে আধা মাইল পর্যন্ত হাঁটতে হবে। শারীরিকভাবে অক্ষম দর্শকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার অনুরোধ করা যেতে পারে। টিকিট আপনি অনলাইনেই পেয়ে যাবেন এবং এর থেকে সংগ্রহকৃত অর্থ সরাসরি রয়্যাল ট্রাস্টে চলে যাবে।

প্রয়োজনীয় কিছু তথ্যঃ
প্রাসাদে প্রবেশের সময় আপনাকে একটি অডিও নির্দেশিকা প্রদান করা হবে যাতে কক্ষগুলোর ভেতরের পথ খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। অডিও ক্লিপটি আপনাকে রাষ্ট্রীয় কক্ষ ও বার্ষিক বিশেষ প্রদর্শনীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। বিভিন্ন ভাষায় অডিও ক্লিপটি পাবেন এবং চাইলে পারিবারিক ভ্রমণেরও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। আর হ্যাঁ, প্রাসাদের ভেতরে ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। 

কীভাবে যাবেনঃ
বাকিংহাম প্যালেস লন্ডনের সেন্ট জেমস পার্কের কেন্দ্রে অবস্থিত। প্রায় এক মাইল দূরত্বে ভিক্টোরিয়া, গ্রীন পার্ক এবং হাইড পার্ক কর্নার নামে লন্ডন ভূগর্ভস্থ স্টেশন রয়েছে। স্টেশন থেকে ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশনে পাঁচ থেকে দশ মিনিটেই হেঁটে যেতে পারবেন। পার্কিং এরিয়া শুধুমাত্র প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ায় প্রাসাদে যাওয়ার জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।


চাইলে এক ফাঁকে ঘুরে আসুন ছবির মতো সুন্দর এই ক্যাসেল থেকে। 

প্রাসাদের আশেপাশে যা দেখতে পারবেনঃ
উইন্ডসর ক্যাসেল লন্ডনের বাইরে অবস্থিত বাকিংহামের নিকটতম রাজকীয় বাসস্থান। আধাবেলার ট্রিপেই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি দেখতে রাজকীয় না হলেও অনেক ইংরেজ সাম্রাজ্যের বিশ্রামস্থল হিসেবে প্রচলিত। রাজপরিবারের অনেকের বিয়ের অনুষ্ঠানের পছন্দের ভেন্যু এটি। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেমব্রিজের রানী ক্যাথেরিনের বিয়ে হয়েছিল এখানেই। 

যদি আসছে ছুটিতে আপনি লন্ডনে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে কয়েক ঘণ্টার এই রাজকীয় সফরে যেতে ভুলবেন না। অবশ্যই এটি আপনার স্মৃতির ভাণ্ডারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাহলে দেরি কেনো! আগাম টিকিট বুকিং করুন এখনই। 

সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান

প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে-https://www.priyo.com/post