(প্রিয়.কম) পশ্চিমা সিনেমাগুলোতে বেড সিন হোক কিংবা সো কলড পর্ণ ভিডিও, সব ক্ষেত্রেই যৌনতার সাথে জড়িয়ে থাকে নারীর শীৎকার বা অদ্ভুত কিছু আওয়াজের দৃশ্য। ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক পুরুষেরই হয়তো অভিজ্ঞতা আছে এই ক্ষেত্রে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যৌন মিলনের সময়ে নারীর এই অদ্ভুত শব্দের কারণ কী? ব্যাপারটা কতটুকুন আসল আর কতটুকুন কৃত্রিম? কিংবা আদতেই কি এই শব্দের সাথে জড়িয়ে আছে যৌনতায় আনন্দের কোন সম্পর্ক?

এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে নেমেছিলেন গবেষকেরাও। Gayle Brewer of the University of Central Lancashire এবং Colin Hendrie of the University of Leeds অনেকদিন যাবতই কাজ করছে মানুষের যৌন আচরণ নিয়ে। আর যৌন মিলনে নারীর শীৎকার বা নানা রকমের অদ্ভুত আচরণ নিয়েও আছে তাদের রিসার্চ। এই গবেষণায় তারা সাহায্য নেন ৭১ জন heterosexual নারীর, যাদের বয়স ১৮ হতে ৪৮ এর মধ্যে। এবং তাদের কাছে জানতে চান সশব্দ যৌনতার নেপথ্যের কারণ আসলে কী। 

এবং এই জরিপে পাওয়া যায় যে, নারীর অরগাজমের সাথে সশব্দ যৌনতার একটা ভূমিকা আছে বৈকি। নারীর অরগাজমের মুহূর্তে শীৎকার একটা বাড়তি ভালো লাগা তৈরি করে, তাই অনেক নারীই এই সময়ে আওয়াজ করতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে ৬৬% নারী জানান যে তারা আওয়াজ করেন সঙ্গীর ভালো লাগা তরান্বিত করতে, সঙ্গীর আনন্দ আরও বৃদ্ধি করতে। ৮৭% নারী এও জানান যে তারা আওয়াজ করেন নিজেরই আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য! এছাড়াও, নারীর সশব্দ যৌনতার পেছনে অন্যান্য কারণগুলি হচ্ছে- একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা, ব্যথা কিংবা ভালো না লাগার অনুভূতি লুকোনোর চেষ্টা করা ইত্যাদি। 

তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে যে, যৌনতায় নারীর সশব্দ আচরণ বা শীৎকারের ব্যাপারটা কি আপাদমস্তক কৃত্রিম বা ফেইক? ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির Kristen Mark বলেন, এই ব্যাপারে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। তবে নকল হোক কিংবা না হোক, নারীর শীৎকারের সাথে যে অরগাজমের একটা সম্পর্ক আছে সেটা পুরুষ মস্তিষ্কে গাঁথা। তাই শীৎকার যৌনতার ব্যাপারটিকে আনন্দময় করতে পারে বৈকি! তবে হ্যাঁ, নকল শীৎকার সঙ্গী পুরুষকে ভুল ধারণাও দিতে পারে আপনার সম্পর্কে। আপনার হয়তো একটুও ভালো লাগছে না, সঙ্গীর আনন্দের জন্য খানিকটা অভিনয় করলেন যে খুব ভালো লাগছে। এতে কী হবে? সঙ্গী ধরে নেবেন যে তিনি সব ঠিকই করছেন, আপনাকে আনন্দ দিচ্ছেন। এতে আর তাঁর মাঝে চেষ্টা থাকবে না সঙ্গিনীর আনন্দের দিকে আরও মনযোগী হবার!  

তবে আসল হোক বা নকল, এখানে উল্লেখ্য যে, কেবল মানবীরাই নন, প্রাইমেট গোত্রীয় আরও কিছু নারী প্রানীর মাঝে এই শীৎকারের ব্যাপারটি দেখা যায়। যেমন- বেবুন, macaque  বানর প্রভৃতি। 

সবশেষে, গবেষক ও সেক্স এডুকেটরদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এটাই যে, অনেক সময়েই হয়তো পার্টনারের খাতিরে নকল শীৎকার করেন নারীরা, কিন্তু এটা সত্যি যে নারীর সশব্দ যৌনতা বেডরুমের আবহাওয়াকে স্পাইসি করে তোলে, পুরুষের আগ্রহ বাড়ায় এবং নারীকে অরগাজমের স্বাদ দিতে সহায়তা করে। 

সূত্র: CNN, youqueen