(প্রিয়.কম): ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনির আহ্বানে বছর ঘুরে আবার এল শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার দিন মানেই পূজামণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু পূজার মণ্ডপের হাজার আলোর রোশনাই আর ভীষণ চেনা হইচইয়ে বছরভর কোলাহলে হাঁপিয়ে ওঠা মন বলে, কাছে পিঠে প্রকৃতির কাছে দে ছুট। জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ি পথ। তাঁর মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলা টয়ট্রেন। জানালা দিয়ে চোখ মেললেই গহীন জঙ্গল। পাহাড়ের ঢালে চা বাগান। পাতা তুলতে ব্যস্ত পাহাড়ি মেয়ে। তিরতির করে বয়ে চলেছে খরস্রোতা পাহাড়ি নদী। কোথাও ময়ূর। কোথাও বা রঙবেরঙের প্রজাপতি। নানারকম পাখ পাখালি। সব পেরিয়ে নিঝুম প্রকৃতি। পূজার ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের ঠিকানা তাই হতেই পারে পাহাড়ের কোলে শিলিগুড়ি। পূজার ছুটিকে আরও আনন্দদায়ক করতে এই ছুটিতে ঘুরে আসুন সীমান্তের ওপার থেকে।

শিলিগুড়ি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং শহর। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় এর অবস্থান। উত্তরে হিমালয় পর্বত, মহানন্দা নদীর তীরেই ভারতের স্বপ্নের শহর শিলিগুড়ি। মাত্র ৪৮.৩ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহরটি বিস্তৃত। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রাচীন বাষ্পীয় ইঞ্জিনে টানা একটি খেলনা ট্রেনগাড়ি বা টয় ট্রেন পাহাড় দিয়ে খাড়া পথ ধরে চলাচল করে এবং পর্যটকদের বহু বিখ্যাত দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দেয়। ১৯৩১ সালে শিলিগুড়ি প্রথম একটি শহরের মর্যাদা লাভ করে। ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভাগের সময় এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এখানে প্রচুর শরনার্থীর সমাগম হয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি খুব সুন্দরভাবে উত্তর পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করে আছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স, গ্যাংটক ছাড়াও বিভিন্ন পর্যটক আকর্ষণ অন্বেষণের ভিত্তি হিসাবে এই শহর কাজ করে। প্রকৃতির বিস্ময়কর দৃশ্য দ্বারা আপনি যদি নিজেকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চান তাহলে শিলিগুড়ি ভ্রমণ করুন। এটি একটি দ্রুত উন্নয়নশীল আধুনিক শহর। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং ডুয়ার্স অঞ্চল ছাড়াও গ্যাংটক ও সিকিমের অন্যান্য অংশগুলি অন্বেষণ করার জন্য মানুষ শিলিগুড়ি ভ্রমণ করতে আসেন। সফরের শুরুতে বা শেষে কেনাকাটা বা থাকার ব্যবস্থার দিক দিয়ে শিলিগুড়ি একটি ভাল জায়গা। প্রকৃতির অপরূপ বৈচিত্র্যের সঙ্গে এখানকার ঋতুবৈচিত্র্যও অসাধারণ। গ্রীষ্মে ৩৫ ডিগ্রি ও শীতে ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় এখানকার প্রকৃতি সেজে ওঠে। শীতের সময়ে হিমালয়ের পাশে ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা নেমে আসে। 

যা দেখবেনঃ 
শিলিগুড়িতে দেখার মতো কয়েকটি বিশেষ দর্শন স্থান রয়েছে। এখানে কোচবিহারের রাজ বংশীয়দের মধ্যে ২১ জন মহারাজার ইতিহাস পাওয়া যায়। এদের মধ্যে মহারাজ নৃপেন্দ্র নারায়ণ উল্লেখযোগ্য। কোচবিহারের দ্বিতল রাজপ্রাসাদটি পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে গাঁথা লাল ইট দিয়ে তৈরি। প্রাসাদটির দর্শনীয় এবং লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে লৌহ ধাতু নির্মিত গম্বুজ। জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত ময়নাগুড়ি এসে দেখা মিলবে শতবর্ষ পুরনো একটি গ্রন্থাগারের। এখানে রয়েছে কয়েক হাজার বিরল বইয়ের সম্ভার। পেয়ে যাবেন পুরনো ঐতিহ্য আর ঐতিহাসিক বইসমগ্র। শিলিগুড়ি শহরকে দ্বিখণ্ডিত করা মহানন্দা নদীর রূপ আরও অপরূপ। নদীবক্ষে নৌভ্রমণে বের হয়ে পুরো শহরই ঘুরে দেখতে পারেন।

কীভাবে যাবেনঃ
 
ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি সরাসরি বিমানে করে যেতে পারবেন। শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটারের দূরত্বে রয়েছে বাগডোগরার বিমানবন্দর। এছাড়া রেলযোগে পৌঁছানোর জন্য ঢাকা থেকে কলকাতার ট্রেন ধরতে হবে। কলকাতা জংশনে শিলিগুড়ি টাউন, শিলিগুড়ি জংশন এবং নিউ জলপাইগুড়ি জংশন নামের তিনটি ট্রেন পাবেন। শিলিগুড়ি সড়ক দ্বারা ভারতীয় রাজ্য গ্যাংটক ও নেপাল এবং ভুটান দেশের সঙ্গে সংযুক্ত। ঢাকা থেকে কলকাতাগামী বাসে করে কলকাতা হয়ে শিলিগুড়ি যেতে পারবেন। 

থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাঃ
দার্জিলিংয়ের পাশে হওয়ায় সুবাদে এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা। বর্তমানে অনলাইনের যুগে দেশে বসেই অনলাইনে আপনার পছন্দমতো একটি হোটেল বা রিসোর্ট ভাড়া করতে পারবেন। পুরো শিলিগুড়ি শহরে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেলে প্রতিদিনের থাকা এবং খাওয়াসহ জনপ্রতি ভাড়া পড়বে প্রায় ৮৫০ থেকে ১২০০ রুপি।  

সব মিলিয়ে এবার পূজায় তাহলে হয়ে যাক জমজমাট এক অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপ।

সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান

প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে-https://www.priyo.com/post