(প্রিয়.কম) চালের জর্দার মতন খাবার, তাও আবার মাত্র ১৫ মিনিটে? শুনে নিশ্চয়ই অনেক বড় রাধুনিরাও চোখ কপালে তুলে ফেলবেন। এ কি করে সম্ভব? সত্যি কথা বলতে কি, মিট মনস্টারের কমার্শিয়াল কিচেনে অনেক কিছুর জন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করার মতন বিলাসিতা করা সম্ভব না। আর তাই, আমাদেরকে আবিষ্কার করে নিতে হয় একদম শর্টকাট রেসিপি। মাত্র ১৫ মিনিটে বিয়ে বাড়ির চালের জর্দা তৈরির রেসিপিটি আমার ঠিক তেমনই একটা শর্টকাট। 

চলুন তাহলে শুরু করি। তবে শুরুতেই বলে নিই, যে পরিমাণ ও যে টিপসগুলো দেয়া হচ্ছে, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে করতে হবে। একটু এদিক ওদিক হলেই কিন্তু আপনার জর্দা হয় গলে জাউ হবে, নতুবা চিনি পুড়ে কয়লা হবে। আর তাই, প্রতিটি পরিমাপ ও টিপস মন দিয়ে দেখে নিতে হবে। 

যা লাগবে-

পুরাতন কালিজিরা পোলাওর চাল ২ কাপ

ঘি হাফ কাপ (কোন তেলের কারবার চলবে না।)

চিনি সোয়া ২ কাপ (যে কাপে চাল মাপছেন, সেই কাপেই মাপতে হবে। চিনি বেশি দিলে জর্দা পুড়ে যাবার চান্স অনেক বেশি। আর জর্দা জিনিসটা একটু হালকা মিষ্টিই ভালো লাগে। তাই চিনি নেবেন একদম মেপে। একটু কম নিলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু বেশি হবে না।)

লং, দারচিনি, এলাচ ৪/৫টি

কিসমিস ও বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রাখা (বাদাম মিহি কুচি করে নিতে হবে)

কমলার টুকরা বা আনারসের মোরব্বা ছোট করে কাটা 

জর্দার রং ১/৪ চা চামচ (চাইলে একটু বেশিও দিতে পারেন) 

পানি ৩ কাপ 

গোলাপ জল বা কেওরার জল ২ চা চামচ 

 

প্রণালি-

-একটা ননস্টিক প্রেসার কুকার নিতে হবে। আজকাল এই জিনিস খুবই এভেইলেবল। এটা হলে বেস্ট হবে। তবে রেগুলার প্রেসার কুকারেও করা যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কুকারটা যেন বহুল ব্যবহার করা হয়। নাহলে তলায় লেগে যাবে। 

- চাল ধুয়ে পানিতে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে পারলে খুব ভালো হবে। জর্দা ঝরঝরে হওয়া তাহলে গ্যারান্টিড। না পারলেও সমস্যা নেই, ভালো করে ৭/৮ বার পানি বদলে কচলে ধুয়ে ঝরা দিয়ে রাখতে হবে। 

-মোরব্বা ছোট করে কেটে নিন, বাদাম কুচি করে নিন।

-পানি ও চিনি একসাথে মিশিয়ে চুলায় দিন।  জর্দার রঙ মিশিয়ে দিন। কেওড়া বা গোলাপ পানিও দিয়ে দিন। 

-এবার প্রেসার কুকারে ঘি দিয়ে লং, এলাচ, দারুচিনি দিয়ে দিন। গন্ধ ছড়ালে চাল দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন। কিসমিস গুলো পানি ঝরিয়ে দিয়ে দিন।

-সবকিছু মিশে গেলে জর্দার রঙ গোলানো ফুটন্ত গরম শিরা চালের মাঝে দিয়ে দিন। প্রেসার কুকারের মুখ আটকে দিন।

-অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে পানি ও চিনি যেন জ্বাল হয়ে ঘন না হয়ে যায়। কেবল পানি ও চিনি মিশে গিয়ে বলক উঠলেই হবে। সিরা ঘন হয়ে গেলে সব কিছু নষ্ট হয়ে যাবে। 

- অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে চুলার আঁচ যেন মাঝারি থাকে। কোনভাবেই উচ্চ তাপ দেয়া যাবে না। এই জ্বাল নিয়ন্ত্রণটাই সবচাইতে বড় ইস্যু। এটা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জর্দা পারফেক্ট হবে। 

-একটা শিষ ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সিটি উঠতে শুরু করলেই চুলা নিভিয়ে দিন। সিটি ওঠা শেষ হলে কুকার চুলা থেকে নামিয়ে নিন। চুলার অতিরিক্ত গরমে তলায় ধরে যেতে পারে। 

- ৮/৯ মিনিট অপেক্ষা করুন। সম্পূর্ণ বাষ্প বেরিয়ে গেলে কুকারের মুখ খুলে ভেতরে বাদাম ও মোরব্বা দিয়ে দিন। যত মোরব্বা ও কিসমিস দেবেন, তত মিষ্টি হবে। এই সময়ে গোলাপ পানি বা কেওড়া জল যোগ করতে পারেন। কাটা চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন চট করে। তারপর আবার কুকারের মুখ আটকে দিন।, ভেতরের গরমে মোরব্বার চিনি গলে মিশে যাবে এই সময়ে।

-৩/৪ মিনিট পর জর্দা বের করে ফ্যানের বাতাসে ছড়িয়ে দিন। কাটা চামচ দিয়ে একটু নেড়ে দেবেন। 

 ছোট মিষ্টি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন চালের জর্দা!