(প্রিয়.কম) সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হবে। পাঁচদিনব্যাপী আনন্দ- উৎসব ৩০ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা (মৃৎশিল্পি)। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, স্বরস্বতী, মহিষ, অসুরসহ নানা ধরনের প্রতিমা তৈরি করে যাচ্ছেন তারা। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। আর কয়েকদিন পরেই প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙের আঁচড়।

এ দিকে পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সার্বক্ষণিক পূজামণ্ডপ এলাকাগুলোতে নিয়োজিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে।

সরেজমিনে জেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপে ঘুরে দেখা যায়, কাদা মাটি, বাঁশ, খড় ও সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ার তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তবে অন্য বারের চেয়ে এবারের প্রতিমা তৈরিতে খরচ একটু বেশি।

অন্যদিকে প্রতিমাগুলো দেখতে মন্ডপে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন ধর্মের ও শ্রেনী পেশার লোকজন। ফরিদপুর থেকে আসা শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দিরের প্রতিমা কারিগর (মৃৎশিল্পি) সুশান্ত পাল বলেন, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছে সে। বাপ দাদাদের কাছেই শেখেন কাদা মাটি আর খড় দিয়ে কীভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। এবারের পূজা উপলক্ষে ১২টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমা মণ্ডপে বসানো হবে বলেও জানান তিনি।

কারিগর সুজন পাল বলেন, বছরের সব সময় কাজ থাকে না তাই অধিকাংশ সময় বেকার থাকতে হয়। কিন্তু এখন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছি। আর কয়েকদিন পর প্রতিমা রঙ করা হবে। তবে কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে সময় লাগে ৮-১০ দিন।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দিরের পুরোহিত অমৃত লাল চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবটি জাকজমকভাবে উদযাপন করা হবে।

রায়পুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিপদ পাল বলেন, এবার ১০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করা হবে। পূজা উদযাপনের জন্য পূর্বেও রায়পুরের সকল ধর্মের লোকজন ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের সহযোগীতা করেছেন এবার ও করবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার বলেন, জেলার প্রত্যেকটি মণ্ডপে এখন প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কিছুদিনের মধ্যেই শেষবারের মতো রঙ লাগিয়ে পোশাক পরিচ্ছদে সুসজ্জিত করে দুর্গা প্রতিমাগুলো যথাসময়ে মণ্ডপে চলে যাবে। এবার লক্ষ্মীপুর জেলায় ৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা পালন করা হবে। তবে পূর্বের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে আমরা দুর্গাপূজা পালন করতে পারব। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক আমাদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করবেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা মন্ডপগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছি। আর সে অনুযায়ী আমরা তিনটি ভাগে নিরাপত্তা দিয়ে থাকব। এ ছাড়াও র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবে যাতে পূর্বের ন্যায় এবারও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল