(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ভেতর সে দেশের সরকার ভূমি মাইন পেতেছে বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সেনা সদস্যরাই এ মাইন পেতেছে বলে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এ মানবাধিকার সংস্থাটি।

০৯ সেপ্টেম্বর শনিবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি বলছে, প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাক্ষাৎকার এবং নিজেদের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ থেকে প্রমাণ মিলেছে যে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই এ মাইন পেতেছে।

সারা বিশ্বে ভূমি মাইন নিষিদ্ধ হলেও ইতিমধ্যে রাখাইন সীমান্তে এ মাইনে গত সপ্তাহে দুই শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। একজন মারা গেছেন। অ্যামনেস্টির অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ব্যবহার করা অন্তত একটি মাইন পিএমএন-১ স্থলমাইন বলে চিহ্নিত হয়েছে, যা সাধারণ জখম করার জন্যই তৈরি করা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘রাখাইন রাজ্যের অবস্থা ইতোমধ্যে এত ভয়ানক যে, এর মধ্যে এটি (ভূমি মাইন পাতা) পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে গেছে।’

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে দুই পা উড়ে যায় এক রোহিঙ্গা নারীর

বিবৃতিতে বলা হয়, হাঁটুর নিচ থেকে তার পা উড়ে যাওয়ার পর এখন বাংলাদেশের একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতের ধরন থেকে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে- এটা বিস্ফোরক কোনো কিছুর কারণেই ঘটেছে, যা শক্তিশালী ও ভূমি থেকে উপরের দিকে বিস্ফোরিত হয়েছে। যার সব কিছু ভূমি মাইনেই হয়ে থাকে।

বিবৃতিতে তিরানা হাসান আরও বলেন, ‘যেখানে প্রাণভয়ে সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক সংখ্যায় মানুষ পালাচ্ছে, সেখানে এসব পথের যত্রতত্র অমানবিকভাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মারণাস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল